রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানাধীন বাঁশবাড়ী বস্তির নাশকতার ঘটনা তদন্ত করছে পুলিশ। বস্তিতে আগুনের ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে। তদন্তে নাশকতার বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। নিঃস্ব, স্বল্প আয়ের আড়াইশ পরিবারের সহস্রাধিক মানুষ এখনো খোলা আকাশের নিচে। খোলা আকাশের নিচে থাকা বস্তিবাসীর সার্বিক নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে।
মোহাম্মদপুর থানার ওসি জামাল উদ্দিন মীর গতকাল শুক্রবার বিকালে বলেন, সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে তাদের ত্রাণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে নেয়া বক্তব্যের সূত্র ধরে অগ্নিকাণ্ডের আগে কয়েকজন যুবকের মোটরসাইকেলে বস্তিতে উপস্থিতির বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
বুধবার গভীর রাতে বাঁশবাড়ি বস্তির ওই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রায় আড়াইশ ঘর পুড়ে যায়। বস্তিবাসীরা অভিযোগ করেছেন, বস্তিকেন্দ্রিক মাদক ব্যবসার জের ধরে প্রতিপক্ষরা পরিকল্পিতভাবে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। নাশকতার ঘটনায় জড়িতরা এলাকার পরিচিত মুখ। তারা মাদক ব্যবসার পাশাপাশি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত।
ঘটনার পর থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের খাবারের ব্যবস্থা করেছেন স্থানীয় ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর তারিকুজ্জামান রাজিব। সেই সঙ্গে বস্তির পাশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাদের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বস্তিতে আগুনে পুড়ে নিঃস্ব হয়েছেন মিনু বেগম, সামিরুন নেসা, আবদুল মালেক, শাহজাহান ও ওসমান গনি, মনি বেগম, সালমা, রেহেনা, আঞ্জুয়ারানসহ আরো অনেকে। তাদের থাকার ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। কিছুতেই তাদের আহাজারি থামছে না। এদের মধ্যে স্থানীয় মুরব্বি ওসমান গনি বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে তিনি পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন। তাদের কোনো থাকার জায়গা নেই। তার মতো বস্তির বেশিরভাগ লোকজনই অসহায়। মিনু বেগমের ৩২টি ঘর পুড়ে গেছে। মিনু বেগমের একটি ঘর থেকেই বস্তিতে আগুনের সূত্রপাত। বুধবার দিবাগত রাত সোয়া ৩টার দিকে ৪টি মোটরসাইকেলে করে শিয়া মসজিদ সংলগ্ন ওই বস্তিতে যায় আট যুবক। তাদের মধ্যে দুইজন মিনু বেগমের সড়ক লাগোয়া ঘরে কেরোসিন ছিটিয়ে দেয়। এরপর ম্যাচের কাঠি দিয়ে আগুন লাগিয়ে দ্রুত তারা সটকে পড়ে। মুহূর্তে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
ইত্তেফাক/রাফাত
