এফ আর টাওয়ারের আগুনে একই প্রতিষ্ঠানের ১০ কর্মী নিহত

আপডেট : ৩১ মার্চ ২০১৯, ০০:৪৫

বনানীর এফ আর টাওয়ারের ১১তলায় ছিল ট্রাভেল এজেন্সি হেরিটেজ এয়ার এক্সপ্রেসের কার্যালয়। বৃহস্পতিবার অগ্নিকাণ্ডের সময় ওই প্রতিষ্ঠানের ২০ জন কর্মরত ছিলেন। তাদের মধ্যে অগ্নিকাণ্ডে মারা গেছেন ১০ জন। নিহতদের মধ্যে এক দম্পতিও রয়েছেন।

হেরিটেজ এয়ার এক্সপ্রেসের বিমানবন্দর শাখার ব্যবস্থাপক জালাল ভুঁইয়া ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, অগ্নিকাণ্ডের সময় অফিসে ২০ কর্মকর্তা কর্মরত ছিলেন। ভবনে আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে ১০ জন ভবনটির উপরে উঠে যান। কিছু সময় পর চারিদিকে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়লে বাকি ১০ জন আর উপরে উঠার সুযোগ পাননি। তারা সবাই নিহত হয়েছেন।

এই ১০ জনের মধ্যে পাঁচজন ভবনের ইন্টারনেটের তার বেয়ে নিচে নামার চেষ্টা করেন; কিন্তু নিচে ছিটকে পড়ে মারা যান তিনজন। বাকি দুইজন কোনো রকমে প্রাণে বেঁচে যান। আর ভবনের ভেতরে আগুনে পুড়ে মারা যান তিন নারীসহ ছয়জন। ওই ঘটনায় আহত মুফতি আবু হেনা মোস্তফা কামাল গতকাল শনিবার মৃত্যুবরণ করেন হাসপাতালে।

জালাল ভুঁইয়া আরো বলেন, এফ আর টাওয়ারে আগুন লাগার আগেও কয়েকজনের সঙ্গে দেখা হয়েছে। আগুন লাগার পরও কয়েকজনের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে। তারা বাঁচার আকুতি জানিয়েছিলেন; কিন্তু আমাদের কিছুই করার ছিল না।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে হেরিটেজ এয়ার এক্সপ্রেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফয়জুল ইসলাম বলেন, আমরা শোকাহত, বাকরুদ্ধ। আমরা আমাদের প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে নিহত কর্মীদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা করব।

যে দশজনকে হারাল হেরিটেজ এয়ার এক্সপ্রেসঃ মাকসুদুর রহমান জেমি (সিনিয়র ট্যুর অপারেটর) ও তার স্ত্রী রুমকী আকতার (অ্যাকাউন্টস অফিসার), আবদুল্লাহ আল মামুন (অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার), মুফতি আবু হেনা মোস্তফা কামাল (হজ ও ওমরাহ অফিসার), নাহিদুল ইসলাম নাহিদ (সিনিয়র সেলস অফিসার), আতাউর রহমান (সিনিয়র সেলস অফিসার), মুনীর হোসেন সরদার (সিনিয়র সেলস অফিসার), মিজানুর রহমান (ভিসা কো-অর্ডিনেটর), তানজিলা মৌলি (ট্যুর অপারেটর) ও জেবুন্নেসা (ভিসা কো-অর্ডিনেটর)।