উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উনের সৎ ভাই কিম জং ন্যাম হত্যার ঘটনায় উত্তর কোরিয়া ও মালয়েশিয়ার মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল সোমবার পিয়ংইয়ংয়ে নিযুক্ত মালয়েশীয় রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠিয়েছে মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তর। এছাড়া তদন্ত নিয়ে মন্তব্যের অভিযোগে কুয়ালালামপুরে নিযুক্ত উত্তর কোরীয় রাষ্ট্রদূত ক্যাং চোলকে তলব করে মালয়েশিয়া।
কুয়ালালামপুর ‘শত্রু শক্তিগুলোর’ সঙ্গে গোপনে আঁতাত করছে এবং তাদের ‘কিছু লুকানোর আছে’ বলে শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেছিলেন চোল। তার এসব কথাবার্তায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল মালয়েশীয় কর্তৃপক্ষ। ন্যামের হত্যাকাণ্ডের তদন্তে চোল বিঘ্ন সৃষ্টি করছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়া উত্তর কোরিয়ার কাছে ন্যামের লাশ হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জানায় মালয়েশিয়া। মূলত এ অস্বীকৃতির ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়।
মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, সংবাদ সম্মেলনে মালয়েশিয়া সরকারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদূত চোল যেসব অভিযোগ করেছেন সেগুলো ব্যাখ্যা করার জন্য তাকে তলব করা হয়েছে। এর পাশাপাশি উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে নিযুক্ত নিজেদের রাষ্ট্রদূতকেও ডেকে পাঠিয়েছে মালয়েশিয়া। জানিয়েছে, ‘পরামর্শ’ করার জন্য নিজেদের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠিয়েছে তারা।
গত সোমবার কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মারা যান ন্যাম। তাকে বিষ প্রয়োগে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ন্যাম কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে ম্যাকাউয়ের ফ্লাইট ধরার অপেক্ষায় থাকার সময় তাকে মুখমণ্ডলে বিষ স্প্রে করা হয় বলে ধারণা পুলিশের। এর আগে বলা হয়েছিল, সুচের মাধ্যমে তাকে বিষ প্রয়োগ করা হয়ে থাকতে পারে। এ খুনে জড়িত সন্দেহে একজন উত্তর কোরীয়সহ আরও তিনজন গ্রেপ্তার হয়েছেন। সন্দেহের তালিকায় থাকা পলাতক আরও চারজনকে খুঁজছে মালয়েশিয়া পুলিশ, যারা সবাই উত্তর কোরিয়ার নাগরিক। তবে এই সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা মালয়েশিয়া থেকে পালিয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ন্যামের খুনের পেছনে উত্তর কোরিয়ার হাত আছে বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হলেও এর কোনও প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি। পিয়ংইয়ংও খুনের বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেনি। কিম জং ন্যাম উত্তর কোরিয়ার প্রয়াত সাবেক নেতা কিম জং ইলের বড় ছেলে। কিম ইল সুং ন্যামকে পাশ কাটিয়ে পরবর্তী নেতা হিসেবে মনোনীত করেছিলেন ছোট ছেলে কিম জং উনকে। এরপর থেকে ন্যাম পরিবার থেকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন ছিলেন। তিনি উত্তর কোরিয়ায় তার পরিবারের একক শাসন এবং ছোট ভাইয়ের নেতৃত্বের যোগ্যতার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সমালোচনামুখর ছিলেন। বিবিসি ও রয়টার্স।
ইত্তেফাক/সাব্বির
