রাজধানীর ফুলার রোডে ব্রিটিশ কাউন্সিলের প্রধান কার্যালয়ে শুরু হয়েছে ‘কোলাবোরেশন ফর ইমপ্যাক্ট’ শীর্ষক তৃতীয় বার্ষিক সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ ফোরাম।
যৌথ সহযোগিতায় এ ফোরামের আয়োজন করেছে ব্রিটিশ কাউন্সিল, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রকল্প এবং বেটার স্টোরিজ, ডিনেট, ফিউচার স্টার্টআপ, এম পাওয়ার ও টিম ইঞ্জিনের মতো দেশজুড়ে সামাজিক উদ্যোগ নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনাকারী নানা প্রতিষ্ঠান।
এ বছর ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা ও যুক্তরাজ্যের ১শ’র বেশি নীতি নির্ধারক, সামাজিক উদ্যোক্তা ও সামাজিক বিনিয়োগকারী এবং অনুশীলনকারী এ পলিসি ডায়ালগে অংশ নিয়েছেন। পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়া এবং যুক্তরাজ্যের নীতিনির্ধারক, সামাজিক উদ্যোক্তা, শিক্ষাবিদ, শিক্ষাসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিখাতের উদ্যোগ বিশেষজ্ঞদের মধ্যকার নেটওয়ার্কের ধারাবাহিক মানোন্নয়ন ঘটাতে কাজ করবে এ ডায়ালগ। ডায়ালগে যুক্তরাজ্যের সামাজিক উদ্যোগ খাতে নীতিমালা ও সর্বোত্তম প্রয়োগ নিয়ে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ ইউকে’র প্রধান নির্বাহী পিটার হলব্রুক।
প্রধান অতিথি হিসেবে সংলাপ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসক) ও এটুআই প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) কবির বিন আনোয়ার। বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ডেপুটি ব্রিটিশ হাই কমিশনার ডেভিড অ্যাশলে এবং ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের পরিচালক বারবারা উইকহ্যাম।
এ নিয়ে বারবারা উইকহ্যাম বলেন, ‘বিশ্বে সামাজিক উদ্যোগ খাতে বাংলাদেশ অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে এবং এক্ষেত্রে এ সংলাপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমার বিশ্বাস। বর্তমানে অল্প পরিসরে হলেও ঢাকায় সামাজিক উদ্যোগের বিস্তার ঘটছে পাশাপাশি, সারাদেশেই অপেক্ষাকৃত বড় পরিসরে হচ্ছে এর বিস্তার ঘটছে। কিন্তু, বাংলাদেশে সামাজিক উদ্যোগের কার্যক্রম ও প্রভাব নিয়ে খুব অল্প পরিমাণ তথ্যাদি রয়েছে। সেক্ষেত্রে এ জরিপ বাংলাদেশে সামাজিক উদ্যোগের কর্মসূচি সম্পর্কে জানার ক্ষেত্রে জ্ঞানের শূণ্যতা পূরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সামাজিক উদ্যোগ খাতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে এ সংক্রান্ত জ্ঞান সম্প্রসারণের মাধ্যমে নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমুলক ও সমৃদ্ধ সমাজ গঠনে কাজ করবে।’
বাংলাদেশে উপযুক্ত একটি সময়ে এরকম একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। সামাজিক উদ্যোগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সারাবিশ্বের জন্য নেতৃত্বদানকারী দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। একই সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে সামাজিকভাবে পণ্য ও সেবা প্রদানের মাধ্যমে বাংলাদেশ বাণিজ্যিকভাবে আদর্শ একটি দেশ। আগামী ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার সবরকম প্রস্তুতি নিয়ে নিয়েছে। উদ্যোক্তা তৈরিতে ব্যাপক অগ্রগতির পাশপাশি বিনিয়োগকারীরা এ দেশের মতো স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বিনিয়োগের ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে উঠছে। সম্প্রতি প্রকাশিত ‘স্টেট অব স্যোশাল এন্টারপ্রাইজ সার্ভে’-তে উঠে এসেছে দেশব্যাপী উদ্যোক্তা তৈরিতে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণে কি কি পদক্ষেপ নেয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। উদ্যোক্তা তৈরির ক্ষেত্রে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে: সামাজিক উদ্যোক্তা হওয়ার ক্ষেত্রে গতানুগতিক উদ্যোক্তাদের চেয়ে তরুণ ও নারীরা মূখ্য ভূমিকা পালন করে; সামাজিক উদ্যোক্তা হয়ে থাকে তরুণ, বেশিরভাগ সামাজিক উদ্যোক্তার বয়স ছয় বছরেরও কম; প্রবৃদ্ধির জন্য সামাজিক উদ্যোক্তারা মুখিয়ে থাকে; বাংলাদেশে ৩২ শতাংশ সামাজিক উদ্যোক্তা সমালোচনামূলক দক্ষতার মতো প্রতিবন্ধকতার সম্মুখিন হয়ে থাকে।
উদীয়মান তথ্যসামগ্রী এটাই প্রমাণ করে যে, সামাজিক যোগাযোগ উদ্যোক্তাদের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। ২০১৭ সালের ফোরামটি সামাজিক উদ্যোক্তা, পেশাদারদের উন্নয়ন, সামাজি বিনিযোগকারী এবং নীতি নির্ধারকদের জন্য দুদিনব্যাপী পলিসি ডায়ালগ থেকে বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে শিক্ষা নেয়া এবং নিজেদের ধারণা আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে একটি বিশাল সুযোগ। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে নতুন নতুন সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে সামাজিক উদ্যোক্তা তৈরির কাজ গতিশীল হবে।
ইত্তেফাক/উজ্জল
