জীবনের শেষ বয়সেও আয়শা বেগমের ভাগ্যে জোটেনি বয়স্ক ভাতা। তিনি কানে শোনেন কম, চোখে দেখেন কম, সোজা হয়ে হাটতে পারেন না। চলতে গেলে শরীর থর থর করে কাঁপে। ভিক্ষা করার শক্তিও নেই।
নিজের বয়স কত তাও বলতে পারেননা। তবে দেখে মনে হয় তার বয়স একশ'র কাছাকাছি। যে বয়সে এখন নাতী-নাতনী নিয়ে হই-হুল্লোড় করে কাটবে তার দিন। অথবা ঠাই হবে বৃদ্ধাশ্রমে। কিন্তু দু'মুঠো ভাতের আশায় আজ তাকে ঘুরতে হচ্ছে মানুষের দারে দারে। সত্যিই বয়োবৃদ্ধ প্রবীণ এ নারীর কাছে বেঁচে থাকাটা কতই না কঠিন! তাই অত্যন্ত দুঃখে তিনি বলেন, 'আল্লাহ কত মানুষ নিয়ে গেল আমারে নেয় না কেন?'
হতভাগ্য এ প্রবীণ নারীর সঙ্গে দেখা হয় আরিচা ঘাটের এক দোকানে। লাঠির ওপর ভর করে এক হাতে পলিথিনে করে খালি কিছু জর্দার কৌটা নিয়ে এসেছে বিক্রি করতে। গায়ে একটা পাতলা চাদর জড়ানো তারপরও শীতে শরীর কাঁপছে। আশ্রিত হিসেবে যে বাড়িতে তিনি থাকেন, যাওয়া হয় সেখানে। একটি টিনের ঘরে একা থাকেন। নাম জিজ্ঞেস করতেই হাও-মাও করে কেঁদে ওঠে বললো, 'এ দুনিয়াতে আমার কেউ নেই।' অথচ তার এক সময় ঘর-বাড়ি, স্বামী-সংসার সবই ছিল। আজ তার কিছুই নেই।
মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় উপজেলার দক্ষিণ শিবালয় গ্রামে ছিল তার বাড়ি। যমুনার নদীর ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে গেছে। স্বামী এলেম খাঁ মারা গেছে অনেক আগেই। ঘর-বাড়ি, স্বামী হারা হয়ে আজ সে পথের ভিখারি। এক ছেলে এক মেয়ে থেকেও না থাকার মত। তারও দূরে থাকেন দিন এনে দিন খায়। মাকে দু'মুঠো ভাত দেয়ার সামর্থ্য তাদের নেই। প্রবীণ এ নারী থাকেন শিবালয় নতুন পাড়া গ্রামে নুরু মিয়ার ছেলে মীর জাহাঙ্গীরের বাড়িতে।
আশ্রয়দাতা মীর জাহাঙ্গীর বলেন, 'আয়শা বেগমের বয়স আনুমানিক একশ। এসব লোকদের জন্যেই সরকার বয়স্ক ভাতা চালু করেছে। দেখা যায় অনেক সুস্থ-সবল মানুষ বয়স্ক ভাতার কার্ড পেয়েছে। কিন্তু এরা যদি না পায় তাহলে এর চেয়ে দু:খজনক আর কি হতে পারে!'
এব্যাপারে শিবালয় ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, 'তাকে বয়স্ক ভাতার কার্ড দেয়ার জন্য একধিকবার ভোটার আইডি কার্ড চাওয়া হয়েছে সে আইডি কার্ড দেয়নি। যে কারণে তাকে বয়স্ক ভাতা দেয়া সম্ভব হয়নি।' তবে আবার সুযোগ আসলে তাকে বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
ইত্তেফাক/জামান
