সুজনের গোলটেবিল বৈঠকে বিশিষ্টজনেরা

বিশ্বাস ফিরিয়ে আনা ও আস্থা অর্জন ইসির প্রথম চ্যালেঞ্জ

আপডেট : ০২ মার্চ ২০১৭, ১৯:৪৩
 
রাজনৈতিক দল ও ভোটারদের আস্থা ও বিশ্বাস ফিরিয়ে আনা নতুন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জন্য প্রথম চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন দেশের বিশিষ্টজনেরা। তারা বলেছেন, মানুষের প্রশ্ন, নির্বাচনে তারা ভোট দিতে পারবেন কি না। নতুন ইসির কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নির্বাচন নিয়ে মানুষের এই ধারণা পাল্টানো। মানুষের বিশ্বাস ফিরিয়ে আনা, আস্থা অর্জন করা। তবে শুধু ইসির সদিচ্ছা দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না, এ জন্য নির্বাচনকালীন যে সরকার থাকবে, তাদের মনোভাব গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে নির্বাচনী বিরোধ মীমাংসায় নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল ও আপিল ট্রাইব্যুনাল স্থাপনের উপর জোর দেন তারা।
 
বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) আয়োজিত ‘নতুন নির্বাচন কমিশনের সামনে চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন। এতে ইসির সামনে ১৯ ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে জানিয়ে তারা বলেন, নির্বাচন কমিশনারদের যোগ্যতা ও দক্ষতা দিয়ে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। নির্বাচনী আইন সংশোধন, ভোটিং মেশিন ব্যবহারসহ বিভিন্ন বিষয়ে রাজনৈতিক দলসহ স্টোকহোল্ডার নিয়ে আলোচনা করতে হবে। এতে তাদের উপর মানুষের আস্থা বাড়বে।
 
সুজন সভাপতি এম হাফিজ উদ্দিন খানের সভাপতিত্বে ও সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ গোলটেবিল বৈঠকে আলোচনায় অংশ নেন সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ড. এটিএম শামসুল হুদা, সাবেক নির্বাচন কমিশনার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম. সাখাওয়াত হোসেন, সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার, সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, সুজন নির্বাহী সদস্য সৈয়দ আবুল মকসুদ, বিচারপতি মো. আব্দুল মতিন, অধ্যাপক আসিফ নজরুল, সুজন জাতীয় কমিটির সদস্য মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, জনাব অধ্যাপক হুমায়ূন কবীর হিররু এবং লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মইনুল ইসলাম প্রমুখ।
 
এ টি এম শামসুল হুদা বলেন, আস্থা অর্জন করা নতুন কমিশনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কমিশনের কথাবার্তায়, কাজেকর্মে জনমনে এই আস্থা তৈরি হতে হবে যে এই কমিশন দলবাজি করবে না। কোনো ধরনের সংশয় যেন তৈরি না হয়। তিনি নতুন কমিশনকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করার পরামর্শ দেন। কমিশনের দক্ষতা বাড়াতে ইসি ক্যাডার তৈরিরও পরামর্শ দেন তিনি।
 
এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, মানুষের ধারণা পাল্টানো এই কমিশনের জন্য প্রথম চ্যালেঞ্জ। এখন রাস্তাঘাটের প্রশ্ন, মানুষ ভোট দিতে পারবে কি না। ভোট নিয়ে মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনাই চ্যালেঞ্জ।
 
আলী ইমাম মজুমদার বলেন, নতুন কমিশনের অংশীজনদের আস্থায় নিয়ে কাজ করতে হবে। জাতীয় নির্বাচনের আগে বিভিন্ন উপনির্বাচন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সীমিত পর্যায়ে ই-ভোটিং চালু করা যেতে পারে। সকল দলের মতামতের ভিত্তিতে ইভিএম-এর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া দরকার।
 
সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, নতুন নির্বাচন কমিশনের সামনে বিরাট চ্যালেঞ্জ। আগামী সংসদ নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ তৈরি করা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব।’ তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচন কমিশনের সামনে দু'টি বিকল্প পথ আছে। একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দিয়ে প্রশংসিত হওয়া, দ্বিতীয়টি হলো একটি অগ্রহণযোগ্য নির্বাচন দিয়ে ইতিহাসে নিন্দনীয় হওয়া। একুশ শতকে বাঙালি জাতি নিন্দনীয় হওয়াও অপছন্দ করে না। নতুন কমিশন কেবল দায়িত্ব নিয়েছে। কাজেই এখনই তাদের নিয়ে কিছু বলা ঠিক হবে না।
 

ইত্তেফাক/মণ্ডল