যশোরের কেশবপুরের সোনাতলা বিলের মালিকরা মাছের ঘেরের বেড়িবাঁধ রক্ষায় আদালত ১৪৪ ধারা জারি করলেও একটি মহল সে নির্দেশ অমান্য করে ঘেরের বাঁধ কেটে দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলার আলতাপোল গ্রামের মৃত ডাক্তার আবুল কাশেমের ছেলে মাছ চাষি সেলিমুজ্জামান আসাদ বিলে ঘের করার জন্য ৭ বছর মেয়াদে প্রায় ২শ’ বিঘা জমির মালিকদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে ক্যানেল ও বেড়িবাঁধ নির্মাণ করেন। ইতোমধ্যে তার চুক্তিনামায় বিলসংলগ্ন শ্রীরামপুর, সরাপপুর, রঘুরামপুর ও মৃর্জানগর এলাকার ১৮৮ জন কৃষকের মধ্যে ১৮২ জন স্বাক্ষর করেছেন।
গত ১১ ফেব্রুয়ারি উপজেলার ভালুকঘর গ্রামের শফি মহালদার, শাহাজান গোলদার, বাদল গোলদার রঘুরামপুর গ্রামের জাকাত হোসেন, আজিজুর রহমান, আনিসুর রহমান, মকবুল সরদার, মুছা সরদার, সরাফপুর গ্রামের মুনসুর মোল্যা, মান্নান শেখ, মির্জানগর গ্রামের শফি সানা, মশিয়ার রহমান, মিজানুর রহমান, আসাদুজ্জামান শেখ, রেজাউল বিশ্বাস তাদের বিলে কোনো জমি না থাকলেও জোটবদ্ধ হয়ে ঘেরের পশ্চিম কোণার বেড়িবাঁধ কাটতে শুরু করলে মালিকদের প্রতিরোধে পালিয়ে যায়। এসময় তারা হুমকি দেয় যে, পরবর্তীতে তারা বেড়িবাঁধ কেটে দেবে । এ হুমকির প্রেক্ষিতে গত ১২ ফেব্রুয়ারি ঘের মালিক সেলিমুজ্জামান আসাদের পক্ষে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত যশোর বরাবর পিটিশন দাখিল করা হয়। আদালত পিটিশন আমলে নিয়ে পক্ষ দ্বয়ের মধ্যে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখাসহ বিরোধীয় জমির প্রকৃত দখলদার বিষয়ে ১৬ মার্চের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কেশবপুর থানার ওসিকে নির্দেশ প্রদান করেন।
মামলার বাদী আবুল কালাম জানান, থানা পুলিশ ১৪৪ ধারা জারি করলেও বিবাদীরা ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩টি স্কেভটর মেশিন দিয়ে নালিশি জমির ওপর তৈরি বেড়িবাঁধ কাটা শুরু করে। এ বিষয়ে থানার এসআই নাজিম উদ্দিন জানান, নালিশি জমির ওপর ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। যদি কেউ এ নির্দেশনা অমান্য করে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ইত্তেফাক/নূহু
