জাতীয় ক্যানসার সম্মেলনে বক্তারা

ক্যানসার রোগীদের সুরক্ষা দেবে বীমাব্যবস্থা

আপডেট : ০৫ মার্চ ২০১৭, ১৫:২৪
 
বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৯০ হাজার মানুষ ক্যানসারে মারা যাচ্ছে বলে জানায় বিশেষজ্ঞরা। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার পর ১২ মাসের মধ্যে ৭৫ শতাংশ রোগী মারা যান। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে চিকিৎসা করতে গিয়ে সবকিছু হারায় রোগীর পরিবার। জাতীয় ক্যানসার সম্মেলনে বক্তারা জানান, এ পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পেতে বীমা বেশ কার্যকর সুরক্ষা দিতে পারে।
 
শনিবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত জাতীয় ক্যানসার সম্মেলনে বিশেষজ্ঞরা এ কথা জানান। ক্যানসার প্রতিরোধ ও গবেষণা কেন্দ্র, ওজিএসবি, সার্জিক্যাল অনকোলজি গ্রুপ, ক্যানসার এপিডেমিওলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশ যৌথভাবে দিনব্যাপী এই সম্মেলনের আয়োজন করে।
 
'ক্যানসারের আর্থ সামাজিক প্রভাব এবং স্বাস্থ্য বীমার ভূমিকা’ শীর্ষক অধিবেশনের মূল উপস্থাপনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক সৈয়দ আবদুল হামিদ বলেন, দেশে প্রায় ১২ কোটি মানুষ মুঠোফোন ব্যবহার করে। মুঠোফোন ব্যবহারের ওপর সামান্য কিছু কর আরোপ করে দেশের প্রায় সব ক্যানসার রোগীকে আর্থিক সুরক্ষা দেয়া যায়, বিমার আওতায় আনা যায়।
 
এর আগে তিনি বলেন, দেশে ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১৩ থেকে ১৫ লাখ। এর সঙ্গে প্রতিবছর দুই লাখ নতুন রোগী যুক্ত হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী দেশে ১৬০টি চিকিৎসাকেন্দ্র থাকা দরকার। এখন মাত্র ১৯টি হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ আছে।
 
অনুষ্ঠানের সভাপতি সাধারণ বীমা করপোরেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলি রুবায়েত উল ইসলাম বলেন, মুঠোফোন কোম্পানিগুলোর সঙ্গে খুব শিগগির তিনি বৈঠক করবেন ক্যানসার চিকিৎসায় অর্থায়নের পন্থা বের করার জন্য।
 
আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রগতি লাইফ ইনস্যুরেন্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জালালুল আজিম বলেন, দেশের মানুষের বীমার ব্যাপারে ধারণা নেতিবাচক। এর কারণ দুটো। প্রথমত, মানুষ হয়তো ভালো সেবা পায়নি। দ্বিতীয়ত, প্রিমিয়ামের হার বেশি।
 
এই অধিবেশনের আগে ক্যানসার সচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়। শেষ অধিবেশনে ক্যানসার নিয়ে বেঁচে থাকা কিছু মানুষ তাঁদের অবস্থা ও অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন।
 
ইত্তেফাক/রাফাত