মসুলের প্রধান সরকারি দপ্তর পুনরুদ্ধার করেছে বলে জানিয়েছে ইরাকি বাহিনী। তবে তথাকথিত ইসলামিক স্টেট (আইএস) বহিষ্কারে অব্যাহত লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে তারা।
এ অগ্রগতি অধিক জন-অধ্যুষিত পুরাতন এই শহরে সরকারি বাহিনীর আক্রমণের পথ সুগম করবে। এই এলাকায় জঙ্গিদের শক্ত অবস্থান রয়েছে। তবে প্রতিদিন হাজার হাজার বেসামরিক লোলেক শহর ছাড়ার স্রোত চলমান রয়েছে। মসুল আইএসের সর্বশেষ শক্তিশালী ঘাঁটি। গত জানুয়ারিতে শহরের পূর্বদিক পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। ফেব্রুয়ারির ১৯ তারিখ থেকে পশ্চিম মসুল উদ্ধারে অভিযান শুরু করেছে সরকারি বাহিনী। কিন্তু এদিন রাতে সবচেয়ে বেশি বোমা হামলা হয়েছে বলে বেসামরিক লোকজন জানিয়েছে।
বাহিনী অতর্কিতে সরকারি ভবনগুলোতে হামলা শুরু করে এবং রীতিমতো ঝড় তোলে। যদিও ভবনগুলো ব্যাপকভাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে। সরকারের এ অর্জনকে প্রতীকী জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল-আবাদি মঙ্গলবার সকালে মসুলে পৌঁছেছেন বলে তার প্রেস অফিস জানিয়েছে।
সরকারি বাহিনী অফিস দখল ছাড়াও জাদুঘর, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান শাখা এবং কাছের একটি বিচারালয় নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। ২০১৪ সালে আইএস কেন্দ্রীয় ব্যাংক দখল করে সেখান থেকে সবকিছু লুট করে নিয়ে যায়। তাছাড়া এই আদালত ভবনে আইএস লোকজনকে নৃশংস শাস্তি প্রদান করত। লোকজনকে পাথর দিয়ে আঘাত করা, ছাদের ওপর থেকে ফেলে দেওয়া এবং হাত টুকরো টুকরো করে কাটত বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়। তাছাড়া জাদুঘরেও লুণ্ঠন চালিয়েছে তারা। প্রাচীন মূর্তি হাতুড়ি ও ড্রিল মেশিন দিয়ে ভাঙ্গার ছবি প্রকাশ পেয়েছে।
শহরের পশ্চিম দিকে আবহাওয়ার কিছুটা উন্নতি হওয়ার পর রবিবার ইরাকি বাহিনী নতুন করে এ আক্রমণ শুরু করে। পরের দিন টাইগ্রিস নদীর ওপর আল-হুরায়রা (স্বাধীনতা) সেতু তারা দখল করে নেয়। তাছাড়া ইতোমধ্যেই দক্ষিণ দিকের অপর একটি সেতু দখলে নিয়েছে তারা। পশ্চিম মসুলে ৮ লাখ মানুষ বসবাস করে বলে জাতিসংঘ জানিয়েছে। এছাড়া গত সপ্তাহে ৪২ হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়ে। বিবিসি।
ইত্তেফাক/সাব্বির
