মণিপুরের বিধানসভায় লোইমানবীর হার, আবারো লড়াইয়ের অঙ্গিকার

আপডেট : ১১ মার্চ ২০১৭, ১৬:২০
ভারতের মণিপুর রাজ্যের থাউবাল আসনে বিধানসভা ভোটে কোনও প্রভাবই ফেলতে পারলেন না ইরম শর্মিলা চানু। মুখ্যমন্ত্রী ওকরাম ইবোবি সিংহের বিপক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন ভারতের লৌহমানবী হিসেবে পরিচিত এই মানবাধিকারকর্মী। কিন্তু এ বারও বাজিমাত করলেন ওকরামই।
 
তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী ইবোবিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছিলেন শর্মিলা। সশস্ত্র বাহিনী বিশেষ ক্ষমতা আইন আফস্পা বাতিলের দাবিতে দীর্ঘ ১৬ বছরের অনশন প্রত্যাহার করে মূল স্রোতের রাজনীতিতে এসেছিলেন শর্মিলা। তাঁকে ভোটে জেতাতে ডাক দিয়েছিলেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। আর্থিক সাহায্যও করেছিলেন। কিন্তু শর্মিলা কোনও দাগই কাটতে পারলেন না। ভোটে দাঁড়িয়ে মাত্র ৯০টি ভোট পেয়েছেন তিনি। সেখানে ওকরামের প্রাপ্ত ভোট ১৮ হাজার ৬৪৯টি। এই কেন্দ্রে দ্বিতীয় স্থানে আছেন বিজেপি প্রার্থী লেইথানথেম বসন্ত সিংহ।
 
মণিপুরে ভোটগণনার প্রবণতা হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। কংগ্রেস এখনও পর্যন্ত ২১টি আসনে এগিয়ে। বিজেপি এগিয়ে ১০টি আসনে। শর্মিলার দল পিআরজিএ এখনও পর্যন্ত সে ভাবে আশানুরূপ ফল করতে পারেনি। অন্যান্য দলগুলি ১০টি আসনে এগিয়ে রয়েছে।
 
তবে মণিপুরে ভোট গণনার আগে শর্মিলা বলেন, যদি হেরে যান, তাহলে ২০১৯ সালের নির্বাচনে আবার লড়বেন। তিনি বলেন, ‘আমি ফলাফল নিয়ে খুব বেশি ভাবি না। সবাই জানে পেশিশক্তি এবং টাকা ছড়ানো হয়েছে খোলাখুলিভাবে।’
 
শর্মিলা আরও বলেন, থাউবাল এলাকার বাসিন্দারা তাঁর সিদ্ধান্তে খুশি। তাঁরা পরিবর্তন চান।
 
উল্লেখ্য, ২০০০ সালের ২ নভেম্বর ভারতীয় সেনাবাহিনীর গুলিতে মণিপুরের রাজধানী ইম্ফলের কাছের একটি গ্রামে ১০ জন নিহত হয়। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজন কিশোরও ছিল। এই মৃত্যু শর্মিলাকে প্রচণ্ড নাড়া দেয়। মণিপুরের জন্য সামরিক বাহিনীর বিশেষ ক্ষমতা আইন আফস্পা প্রত্যাহারের দাবি তোলেন শর্মিলা। নেমে পড়েন আন্দোলনে। শুরু করেন অনশন। 
 
টানা ১৬ বছর অনশনের পর গত বছরের ২৬ জুলাই তিনি ইম্ফল পশ্চিমের মুখ্য জেলা বিচারক এল টনসিংকে কথা দেন, মামলার পরবর্তী শুনানির দিন তিনি অনশন ভাঙবেন। কথামতো ওই বছরের ৯ আগস্ট অনশন ভাঙেন ৪২ বছরের সাহসী নারী। নিজ হাতে পান করেন মধু। আদালত এদিনই তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন। এনডিটিভি।
 
ইত্তেফাক সেতু