ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ব্রেক্সিট বিলের চূড়ান্ত অনুমোদন

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০১৭, ১৯:০১
ব্রিটেনের পার্লামেন্টে চূড়ান্ত অনুমোদন পেল ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বেরিয়ে যাওয়া সংক্রান্ত ‘ব্রেক্সিট বিল’। এর ফলে লিসবন চুক্তির ৫০ ধারা অনুযায়ী ব্রেক্সিট বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী টেরিসা মের সামনে আর কোনো বাধা রইল না।
 
স্থানীয় সময় সোমবার রাতে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে উচ্চকক্ষ হাউস অব লর্ডসে পাস হয় এ বিল। এখন শুধু রানি এলিজাবেথের সম্মতি নেয়া বাকি। এখন রাণীর সম্মতির পরেই বিলটি আইনে পরিণত হবে। আর তখনই টেরিসা মে ইইউয়ের সঙ্গে ব্রেক্সিট বিষয়ক আলোচনা শুরু করবেন। গত জুনে ব্রিটেনবাসীর গৃহীত ইইউ ত্যাগের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে লিসবন চুক্তির ৫০ ধারা প্রয়োগের মাধ্যমে ব্রাসেলসের সঙ্গে ব্রেক্সিট আলোচনা শুরুর পরিকল্পনা করেন মে। তবে সুপ্রিম কোর্টের জারিকৃত রুল অনুযায়ী, ইইউ ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার রয়েছে পার্লামেন্ট সদস্যদের।
 
সুপ্রিম কোর্টের রুলের জবাবে পার্লামেন্টে খসড়া আইন পেশ করে ব্রিটিশ সরকার। খসড়া আইনটি পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউজ অব কমন্সে অনুমোদিত হলেও বিলটি সংশোধনের আবেদন জানান উচ্চকক্ষের অনির্বাচিত সদস্যরা। প্রাথমিকভাবে দুবার হাউস অব লর্ডসে আটকে যায় বিলটি। এতে সংশোধনীর পক্ষে ভোট দেন উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যরা। উচ্চকক্ষে ব্রেক্সিট বিল-বিষয়ক বিতর্ক শুরুর আগে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আলোচনা শুরুর ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন মে। তবে পর পর দুবার হাউজ অব লর্ডসে বিলটি সংশোধনের পক্ষে প্রস্তাব পাশ হওয়ায় এ বিষয়ে সংশয় দেখা দেয়।
 
পার্লামেন্টে দেয়া বক্তব্যে দেশটির ব্রেক্সিট বিষয়ক সেক্রেটারি ডেভিড ডেভিস বলেন, ‘পার্লামেন্ট আজ ইইউ ছাড়ার জন্য বর্তমান সরকারের উদ্যোগকে আনুষ্ঠানিক সমর্থন দিল। এর ফলে আমরা আমাদের দেশের ভবিষ্যতের জন্য সবচে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক আলোচনা শুরু করতে পারব। এ আলোচনা বর্তমান প্রজন্মের জন্যও বেশ গুরুত্বপূর্ণ।’ আদালতে ও আইনসভায় উপর্যুপরি দুবার বাধা পেয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিছুটা অধৈর্য হয়ে উঠেছিলেন। গত সপ্তাহে ব্রাসেলসে এক সম্মেলনে তিনি বলেন, আমাদের ইউরোপীয় অংশীদাররা আমাকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, তারা আলোচনা শুরু করতে চান। আমিও তাই চাই। এবার তার সামনে আর কোনো বাধা রইল না। বিবিসি ও রয়টার্স।