সরকার ও এনজিও’র মধ্যে অস্বস্তিকর সহাবস্থান দূর করার আহ্বান

আপডেট : ২০ মার্চ ২০১৭, ০৩:০৭

বাংলাদেশের জন্য বর্তমানে বড় চ্যালেঞ্জ সমতাপূর্ণ উন্নয়ন ও শতভাগ দারিদ্র্য নিরসন। টেকসই উন্নয়নের জন্য জনগণের দারিদ্র্যমুক্তির পাশাপাশি স্থায়ী উন্নয়নের ওপর জোর দিতে হবে। এজন্য সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোকে পরস্পরের সহযোগী ও সম্পূরক হিসেবে কাজ করতে হবে। কিন্তু বর্তমানে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো (এনজিও) এবং সরকারের মধ্যে এক ধরনের অস্বস্তিকর সহাবস্থান রয়েছে। এই অস্বস্তি দূর করে ফলপ্রসূ সহাবস্থান ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।

গতকাল রবিবার রাজধানীতে ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত ‘এনজিও এবং উন্নয়ন’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় অর্থনীতিবিদ ও গবেষকরা এ কথা বলেন। ব্র্যাক ডে উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিশ্বের সবচেয়ে বড় এনজিও ব্র্যাক।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থনীতিবিদ ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, জনগণ শুধু দারিদ্র্যমুক্তি চায় না। তারা উন্নয়নের সমভোগীও হতে চায়। এজন্য ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। জনগণের উন্নয়নে সরকারি সংস্থা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা ভিন্ন ভিন্ন। যেখানে সরকারের সাহায্য সহজে পৌঁছতে পারে না, সেখানে এনজিওগুলো নিজেদের কার্যকারিতা প্রমাণ করতে পারে। আবার নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে জনগণকে শক্তিশালী করার কাজটি সরকারই সবচেয়ে কার্যকরভাবে করতে পারে। তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়নের জন্য সরকারকে এলাকাভিত্তিক চাহিদা ও মানুষের আকাঙ্ক্ষা বিবেচনায় নিয়ে কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে।

রেহমান সোবহান বলেন, ক্ষুদ্র ঋণ দারিদ্র্য নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। এর মাধ্যমে নতুন অর্থ ও মুনাফাও সঞ্চারিত হয়। বাংলাদেশে এখন গ্রাহকের চাহিদানির্ভর ক্ষুদ্রঋণ ও উন্নয়ন প্রকল্পে জোর দিতে হবে।

তিনি বলেন, অভিবাসীদের উন্নয়নে এবং তাদের প্রেরিত অর্থ ব্যবহারে সৃজনশীল পদক্ষেপ নিতে আর দেরি করা উচিত হবে না। তিনি বলেন, সব এনজিওর একই কাজ করার প্রয়োজন নেই। কেউ অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কেউ অধিকার সুরক্ষা, আবার কেউ শিক্ষা-স্বাস্থ্যের মতো ক্ষেত্রগুলোতে জোর দিয়ে কাজ করতে পারে।

রেহমান সোবহান বলেন, অল্প আয়ের মানুষের উন্নয়নকে প্রধান লক্ষ্য নির্ধারণ করে কাজ করা উচিত। কেননা ব্যক্তির আর্থিক সক্ষমতা যত কম, তার মানবিক-সামাজিক ও আইনি অধিকার রক্ষা তত কঠিন। অনেক এনজিও তাদের খরচ উসুল করতে গিয়ে খরচের একটি চাপ গ্রাহক বা জনগণের উপরও চাপিয়ে দেয়। এটি কাম্য নয়।

অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, সরকার এবং এনজিওগুলোর মধ্যে অস্বস্তিকর সহাবস্থান বিরাজ করছে। অথচ এটি ফলপ্রসূ সহাবস্থান হতে পারত।  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক  ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, দেশে এখন ধর্মীয় উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদ নতুন করে মাথাচাড়া দিয়েছে। এটি দূর করতে সরকার ও এনজিওগুলোকে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করতে হবে।

গণ-সাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, এনজিওগুলো ব্যবসা করার জন্য পরিচালিত হচ্ছে বলে সমালোচনা রয়েছে। এটি হয়তো ঠিক নয়। তবে ব্যবসা করা বা মুনাফা অর্জনের দিকে নজর না দিয়ে জনগণের আর্থিক ও মানবিক উন্নয়নে জোর দিতে হবে। শিক্ষার জন্য জনগণের কাছ থেকে খরচ উসুল না করে দাতাসংস্থাগুলোকে চাপ দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক প্রধান সমন্বয়কারী আবুল কালাম আজাদ বলেন, এনজিওগুলো সাধারণত এক দেশের জনগণের টাকা আরেক দেশের জনগণের জন্য খরচ করে। তাই এতে অবশ্যই স্বচ্ছতা থাকা জরুরি।
ইত্তেফাক/নূহু