বিমানবন্দরে লাগেজ বিড়ম্বনা

আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০১৮, ২১:৪৯

যে কোনো বিমানবন্দর একটি স্পর্শকাতর এলাকা হিসাবে বিবেচিত। এইখানে সর্বোচ্চ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা থাকাটাই কাম্য। কিন্তু আমাদের প্রধান বিমানবন্দর হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনি ভেদ করিয়া কীভাবে যাত্রীদের লাগেজ কাটিবার ঘটনা ঘটিতেছে? এখানকার সিসি ক্যামেরা কি নিষ্ক্রিয়? ইহার মোকাবিলায় সিভিল এভিয়েশন, বিমান কাস্টমস, এপিবিএন, বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাই বা কী করিতেছেন? দুর্বৃত্তরা তাহাদের চোখকে ফাঁকি দিতেছে কীভাবে? লাগেজ কাটিয়া শুধু মালামাল চুরিই নহে, লাগেজের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করিতে হইতেছে। অনেক সময় সেই লাগেজ হইয়া যাইতেছে লাপাত্তা। মন্ত্রী, এমপি, ভিআইপি, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ যাত্রীরাও এইরূপ লাগেজ বিড়ম্বনার শিকার হইতেছেন। বিশেষত লাগেজ কাটা পার্টির সদস্যরা যাত্রীদের মূল্যবান জিনিসপত্র যেমন—মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, আইপ্যাড, স্বর্ণালংকার এমনকি জীবন রক্ষাকারী ঔষধপত্রও চুরি করিতেছে অহরহ। সম্প্রতি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দক্ষিণ আফ্রিকা হইতে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে আসা ২০টির বেশি লাগেজ কাটিবার ঘটনা ঘটিয়াছে। এইজন্য ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীরা বিমানবন্দরের সংশ্লিষ্ট শাখায় অভিযোগ দায়ের করিয়াছেন।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি কয়েক বত্সরে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে লাগেজ বিড়ম্বনার শিকার হইয়াছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, সাবেক স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এমনকি খোদ সাবেক বিমানমন্ত্রী জিএম কাদেরও। এইজন্য প্রধানমন্ত্রীকে কড়া হুঁশিয়ারিও উচ্চারণ করিতে হইয়াছে। যেইখানে ভিআইপি ব্যক্তিদের লাগেজ কাটিয়া মূল্যবান সামগ্রী চুরি করা হয় বা লাগেজ খোয়া যায়, সেইখানে সাধারণ যাত্রীরা কোথায় যাইবেন, তাহা বুঝিতে অসুবিধা হয় না। লাগেজ কাটা পার্টির সদস্যরা এতটাই চতুর যে, তাহারা যে কোনো লাগেজ ধরিলেই বুঝিতে পারে লাগেজের কোথায় মূল্যবান জিনিস আছে। তাহার পর তাহা কাটিয়া মূল্যবান জিনিসপত্র গায়েব করিয়া দেয়। এইজন্য অনেকে মনে করেন, দামি জিনিসপত্র লাগেজে না রাখিয়া হাতব্যাগে রাখাই শ্রেয়।

বিমানবন্দরে দায়িত্বপ্রাপ্ত একশ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছত্রচ্ছায়ায় লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড শাখার মাধ্যমে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট লাগেজ চুরির সহিত জড়িত বলিয়া অভিযোগ রহিয়াছে। বিমানবন্দরের অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জেল-জরিমানা করিবার পর এই পরিস্থিতি অনেকটাই কমিয়া আসিয়াছিল। কিন্তু নজরদারির অভাবে তাহারা আবার যে মাথাচাড়া দিয়া উঠিতেছে, তাহাতে সন্দেহ নাই। এই পরিস্থিতি উদ্বেগজনক ও বিমানবন্দরের নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। সুতরাং লাগেজ কাটা পার্টির সদস্য ও ইহার মূল হোতাদের অবিলম্বে গ্রেফতার করা প্রয়োজন। তাহাদের বিরুদ্ধে নেওয়া প্রয়োজন কঠোর ব্যবস্থা। মনে রাখা দরকার, বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আমাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হইলে তাহার বিরূপ প্রভাব ব্যবসা-বাণিজ্যসহ পর্যটন শিল্পেও পড়িতে বাধ্য। এমনকি ইহাতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়িবার ঝুঁকিও তৈরি হইতে পারে। ইহাছাড়া বিমানবন্দরের অন্যান্য অব্যবস্থাপনার মধ্যে রহিয়াছে—মশার উপদ্রব, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় ত্রুটি ইত্যাদি। যেহেতু বিমানবন্দর হইতেছে যে কোনো দেশের প্রবেশমুখ, তাই কেহ বাংলাদেশে আসিয়া এই দেশ সম্পর্কে কোনো খারাপ ধারণা লইয়া যান—তাহা কাম্য হইতে পারে না। এইজন্য বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত ও ইহার নিরাপত্তার ঘাটতি দূর করা একান্ত প্রয়োজন।