জঙ্গি আস্তানায় নিহত শিশুর পরিচয় নিয়ে পুলিশের লুকোচুরি

আপডেট : ২৩ মার্চ ২০১৭, ০৯:২৭
 
সীতাকুণ্ডে ছায়ানীড় ভবনের জঙ্গি আস্তানায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত শিশুর পরিচয় নিয়ে লুকোচুরি করছে পুলিশ। গত ১৬ মার্চ ভোরে ছায়ানীড় ভবনে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ও পুলিশের সঙ্গে গুলিবিনিময়ে চারজন নিহত হওয়ার তথ্য গণমাধ্যমকে জানান চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. শফিকুল ইসলাম। একই দিন সন্ধ্যায় ওই ভবনের সিঁড়ির পাশে অজ্ঞাত পরিচয় দুই বছরের এক শিশুর লাশ উদ্ধারের কথা জানায় পুলিশ। পরবর্তীতে নিহত চার জঙ্গির মধ্যে কামাল ও জোবায়দার পরিচয় জানতে পারে পুলিশ। তবে নিহত শিশুটির ব্যাপারে পুলিশ এখনো পর্যন্ত নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেনি। নিহত অপর দুইজনের ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হলেও শিশুটির ব্যাপারে এ ধরনের কোনো পদক্ষেপের কথা জানানো হয়নি।
 
তবে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, নিহত শিশুটি জঙ্গি আস্তানায় নিহত কামাল ও জোবায়দার সন্তান। কামাল ও জোবায়দার মরদেহ তাদের বাবা চমেক সনাক্ত করেছেন বলে পুলিশ জানায়। যদি নিহত শিশুটি তাদের নাতি হয়ে থাকে তাহলে তাকেও তারা সনাক্ত করেছিলেন। পুলিশের দাবি, জঙ্গি কার্যক্রমে জড়িত থাকার কারণে কামাল ও জোবায়দার লাশ তাদের পরিবার গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। কিন্তু দুই বছরের শিশুটির লাশ কেন তাদের দাদা ও নানা গ্রহণ করেননি পুলিশ সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জঙ্গিবিরোধী অভিযানে মাত্র দুই বছর বয়সী শিশুটি তার বাবা মায়ের সঙ্গে নির্মমভাবে মারা গেছে। শিশু মৃত্যুর এই খবর প্রচারিত হলে পুলিশ সমালোচনার মুখে পড়বে। এই বিব্রতকর অবস্থা এড়াতেই শিশুটির বিষয়ে পুলিশ এমনটি করছে।
 
জঙ্গি আস্তানায় ৫ দিনের অভিযান শেষে চট্টগ্রাম পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে শিশুটির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে যাওয়া হয়। সাংবাদিকদের দেওয়া প্রেস বিজ্ঞপ্তিতেও নিহত শিশুটির বিষয়টি খোলাসা করা হয়নি। পুলিশের একটি সূত্র জানায়, সে দিন রাতে (সোমবার) নগরীর চৈতন্যগলি কবরস্থানে অনেকটা গোপনীয়তার মধ্যেই হতভাগ্য শিশুটিকে তার বাবা-মায়ের পাশে কবর দেওয়া হয়।             
 
প্রসঙ্গত, গত ১৫ মার্চ সীতাকুণ্ডে দুটি জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানের প্রথম পর্যায়ে সাধন কুঠির থেকে জসিম ও আরজিন নামে দুই জঙ্গিকে পুলিশ আটক করে। তাদেরও ৯ মাস বয়সী একটি ছেলে রয়েছে। বর্তমানে জসিম ও আরজিনাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের দুগ্ধশিশুটিকেও বাবা-মায়ের সঙ্গে  হাজতে রাখা হয়েছে।