শ্রীনগরে আওয়ামী লীগের দু’ গ্রুপের স্বাধীনতা দিবসের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি নিয়ে ধাওয়াপাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও গোলাগুলি হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের ১৫ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে রহমান মার্কেটের ম্যানেজার মিন্টু মিয়া (৪৫), স্থানীয় গ্যারজের গাড়ি চালক মো. শহিদ (৩৮), যুবলীগ কর্মী খোকন মিয়া (৪৫), শ্রীনগর কলেজ শাখা ছাত্র লীগের সভপতি মো. রাব্বি (২৩) ও উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি শাহজাহান মিয়াকে (৫৩) স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
রবিবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে এম রহমান শপিং কমপ্লেক্সের সামনে আকস্মিক এ ঘটনায় শ্রীনগর বাজার ও আশপাশের এলাকায় জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পরে। সংঘর্ষ থেমে গেলেও এখন থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় জেলা পুলিশ লাইন থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ের করা হয়েছে। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী এই সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ শতাধিক রাউন্ড ফাকা গুলি ও কাঁদানো গ্যাস ছুড়ে। এসময় এম রহমান শপিং কমপ্লেক্স ও আশপাশের দোকানে ব্যাপক ভাংচুরের ঘটনা ঘটে।
মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সুকুমার রঞ্জন ঘোষ অভিযোগ করেছেন, তাঁর গাড়িতেও প্রতিপক্ষের লোকজন গুলি ছুড়ে। ভাগ্যক্রমে কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে এই সহিংসতায় বেশ কয়েকজন নিরীহ কর্মী আঘাত পেয়েছে।
অন্যদিকে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপ কমিটির সাবেক সহ সম্পাদক গোলাম সরোয়ার কবিরের পক্ষের জেলা যুবলীগের কোষাধ্যক্ষ মশিউর রহমান মামুন জানান, বিগত কয়েকটি জাতীয় দিবসের মতই এবার স্বাধীনতা দিবসে পৃথক শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। পুলিশ সকাল ১০টায় ঝুমুর সিনেমা থেকে স্টেডিয়াম পর্যন্ত সুকুমার রঞ্জন ঘোষ এমপির শোভাযাত্রার সময় নির্ধারণ করে। একই সাথে গোলাম সরোয়ার কবিরের পক্ষের শোভাযাত্রার সময় নির্ধারণ করা হয় বেলা ১২টায়। এম রহমান মার্কেট থেকে শ্রীনগর, ধাইশার মোড়, দেউলভোগ, শ্রীনগর থানা হয়ে এম রহমান মার্কেটে এসে শেষ করার কথা ছিল এই শোভাযাত্রা। সেই অনুযায়ী লোকজনও জড়ো হচ্ছিল। কিন্তু ঘোষ সময় ক্ষেপণ করে পরিকল্পিতিভাবে এই সহিংসতা বাঁধিয়েছে।
কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপ কমিটির সাবেক সহ সম্পাদক গোলাম সরোয়ার কবির জানান, কুমিল্লা সিটি নির্বাচনের প্রচারনায় তিনি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের টিমের সাথে কুমিল্লায় কয়েকদিন ধরে অবস্থান করছেন। এই সুযোগে তার পক্ষের নেতা কর্মীদের উপর হামলা করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে সিরাজদিখান সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার কাজী মাকসুদা লিমা জানান, অতিরিক্ত পুলিশসহ ঘটনাস্থলে অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য শর্টগান ও টিয়ার সেল ব্যবহার করতে হয়েছে। পুলিশ অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের জন্য অভিযান চালাচ্ছে। শ্রীনগর থানার ওসি এসএম আলমগীর হোসেন জানান, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই ঘটনায় এখনও কোন মামলা হয়নি। কেউ গ্রেফতার নেই।
