নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় এবার ছয় সন্তানের জননী এক নারীকে (৪৫) গণধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ভোটকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের লোকজন মারধর করে ও স্বামীকে আটকে রেখে ছয় সন্তানের জননীকে গণধর্ষণ করে। রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার চরজব্বার ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের উত্তর বাগ্গা গ্রামের জনৈক রুহুল আমিনের মৎস্য খামারে এ ঘটনা করে। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে আহত অবস্থায় ভুক্তভোগী ও তার স্বামীকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সোমবার দুপুরে আবুল বাসার ও ইউসুফ মাঝি নামে দুইজনকে আটক করে পুলিশ। ধর্ষণের ঘটনায় ওই নারীর স্বামী দুপরে ৮ জনকে এজহারভুক্ত ও আরো অজ্ঞাত ৩/৪ জনকে আসামী করে চরজব্বার থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
ধর্ষিতা অভিযোগ করে বলেন, রবিবার উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ভোট চলছিল। তিনি ও তার স্বামী চশমা প্রতীকের প্রার্থী তাজ উদ্দিন বাবরের সমর্থনে ভোট করেন। সন্ধ্যায় পর তিনি ও তার স্বামী মোটরসাইকেল যোগে নিজেদের বাড়িতে আসছিলেন। পথে তালা প্রতীকের প্রার্থী এবং নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান ফরহাদ হোসেন বাহার সমর্থক ইউসুফ মাঝির নেতৃত্বে ১০/১২ জন তাদের মারধর করেন। এ সময় বেচু মাঝি, বজলু ও আবুল বাসার তাকে জোর পূর্বক ধরে নিয়ে পার্শ্ববর্তী মৎস্য খামারের কলা বাগানে ধর্ষণ করে। পরে তার স্বামীর চিৎকারে এলাকার লোকজন এসে তাদের উদ্ধার করে এবং রাতেই হাসপাতালে পাঠায়।
চরজব্বার থানার ওসি মো. সাহেদ উদ্দিন দুইজনকে আটক ও মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। প্রাথমিক তদন্তে পূর্ব শক্রতার জের ধরে এ ঘটনা হয়েছে বলে জানা যায়। জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে আবাসিক মেডিকেল অফিসার সৈয়দ মহিউদ্দিন আবদুল আজিম জানান, ভুক্তভোগী নারী ও তার স্বামীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ধর্ষণের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার জন্য ওই নারীর ডাক্তারি পরীক্ষা করা হবে।
আরো পড়ুন: নেতারা বলেছিল প্রবেশপত্র আসবে
এদিকে বিকালে পুলিশ সুপার মো. ইলিয়াছ শরীফ ঘটনাস্থলে যান। তিনি বলেন, ঘটনাটি যে কারণে হয়ে থাকুক না কেন জড়িতদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এর আগে সকালে হাসপাতালে ওই নারীকে দেখতে যান জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দীপক জ্যোতি খিষা। এ সময় তিনি নির্যাতিতাকে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।
ইত্তেফাক/অনি
