নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার গুচ্ছগ্রাম এখন প্রভাবশালীদের দখলে। সরকারের ভরাটকৃত মাটি ও বালু কেটে বিক্রি করছে রাস্তায়। প্রশাসনের হস্তক্ষেপ আশা করছে এলাকাবাসী।
জানা যায়, গত ১৯৮৮-৮৯ সালে সরকার দরিদ্র ও ভূমিহীন পরিবারগুলোকে পূনর্বাসনের লক্ষে উপজেলার গোলনা ইউনিয়নের খারিজা গোলনা গ্রামে ৫৩একর ৬০শতাংশ জমির ওপর মাটি ভরাট ও ঘর নির্মান করে ওই ইউনিয়নের ৫০ পরিবারকে পুনর্বাসিত করে। তখন থেকে এর নাম হয় গুচ্ছগ্রাম।
গুচ্ছগ্রামের ঘর ও জমি কবুলিয়ত দলিলের মাধ্যমে পরিবার প্রধানদের নামে রেজিষ্ট্রি দেয়া হয়। ওই দলিল সূত্রে একটি ঘর ও এক একর জমির মালিক ইয়াদ আলী মণ্ডল। ইয়াদ আলীর মৃত্যুর পর সেখানে রয়েছে তার ৬ ছেলে। এরমধ্যে ছোট ছেলে চাঁনমিয়া ভুলে গেছেন এগুলো সরকারি জমি। তিনি আইনের কোন তোয়াক্কা না করে পৈত্রিক সম্পত্তি মনে করে এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যাক্তিকে সঙ্গে নিয়ে দিনের পর দিন টাকার লোভে ভরাট করা গুচ্ছগ্রামের মাটি ও বালু কেটে বিক্রি করছেন।
এসব মাটি ও বালু উপজেলার বিভিন্ন রাস্তার কাজে ব্যাবহার করছে ঠিকাদাররা। এর ফলে খারিজা গ্রামের সনাতন ধর্মালম্বীদের লাশ নিয়ে শ্বশানে যাওয়ার একমাত্র রাস্তাটিও বন্ধ হয়ে গেছে।
মাটি এবং বালু ছাড়াও গুচ্ছগ্রামের জায়গা দখল করে সেখানে একটি বড়মাপের পুকুর খনন করেছে। ওই গুচ্ছগ্রামে চাঁনমিয়ার দাপটে পরিবার পরিজন নিয়ে কালামামুদ নামের এক বাসিন্দা গুচ্ছগ্রাম ছেড়ে পালিয়ে গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাসিন্দারা জানায়, এছাড়াও সেখানে চাঁন মিয়া ডিমলা উপজেলা থেকে এনে তার এক বোনকে পুনর্বাসিত করেছে।
চাঁনমিয়ার কর্মকাণ্ড দেখে পার্শ্ববর্তী এলাকার জহুরুল হক নামের এক ব্যাক্তি মেশিন দিয়ে পুকুর খনন করে বালু ও পাথর উত্তোলন করে বিক্রি করছে। তাদের ভয়ে এলাকার চেয়ারম্যান বা ইউপি সদস্যরাও কিছু বলার সাহস পায়না। সম্প্রতি এ গুচ্ছগ্রামের বালুসহ একটি ট্রলি এলাকাবাসী আটক করে স্থানীয় চেয়ারম্যান কামরুল আলম কবিরকে খবর দেয়। পরে তিনি ঘটনাস্থলে গ্রাম পুলিশ পাঠিয়ে বালুভর্তি ট্রলিটি ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যান। দুদিন পরে ট্রলিটি কোনকিছু লিখিত ছাড়াই ছেড়ে দেন।
এ ব্যাপারে চাঁনমিয়া জানায়, সরকার আমার বাবাকে গুচ্ছগ্রামের জমি দিয়েছে। সে হিসেবে বাবার অবর্তমানে জমির মালিক আমরা। উঁচু জমিতে চাষাবাদ হয় না তাই জমি কেটে নিচু করছি। এতে দোষের কিছু দেখি না। যাদের বালু ও মাটির দরকার তারাই এখান থেকে নিয়ে যায়। এ ব্যাপারে ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শ্যামল চন্দ্র রায় বলেন, গুচ্ছগ্রামটি তো ধংস হচ্ছে। পাশাপাশি আমাদের শ্মশানে যাওয়ার একমাত্র রাস্তাটির মাটি কেটে বিক্রি করে দিয়েছে চাঁনমিয়া।
গোলনা ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল আলম কবিরের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, আটককৃত ট্রলিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে ছেড়ে দিয়েছি। চাঁনমিয়ার কর্মকাণ্ড সরজমিনে জেনেছি। তার এসব কর্মকাণ্ড চরম অন্যায়। এ ব্যাপারে ইউএনও মুহাম্মদ রাশেদুল হক প্রধান জানান, গুচ্ছগ্রামের বিষয়টি সরজমিনে দেখে ব্যাবস্থা নেবো।
ইত্তেফাক/নূহু
