টানা বর্ষণ ও শিলাবৃষ্টিতে দুর্গাপুরে বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০১৭, ০১:৪৮

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে বসন্তের শেষলগ্নে টানা বর্ষণ এবং গত রবিবার রাতে শিলাবৃষ্টিতে পৌর শহরের রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রায় ১০০০ হেক্টর জমির বোরো ফসল ও মৌসুমি সবজির ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। অসময়ের অতি বৃষ্টির কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির স্বীকার হয়েছেন উপজেলাবাসী। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ ওমর ফারুক এই প্রতিবেদককে বলেন—বাদাম, মুসুরি, ঢেঁড়স, সরিষা, রসুন, আলু, কুমড়া, বোরো, আমন ধানসহ প্রায় ১০০০ হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে।

উপজেলার কুল্লাগড়া, কাকৈরগড়া, বাকলজোড়া ও গাওকান্দিয়া ইউনিয়নসহ পৌর এলাকার জমির ধান পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। গাঁওকান্দিয়া ইউনিয়নের হাতিমারাকান্দা গ্রামের কৃষক মোন্তাজউদ্দিন বলেন, ‘আমার নিচু জমিতে বোরো ধান ক্ষেত বর্তমানে তিন-চার ফুট পানির নিচে তলিয়ে আছে।’

এলাকার অন্য কৃষকরা জানান—এ বছর বোরো আমনের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা থাকলেও দুর্যোগ-কবলিত হওয়ায় তা আর সম্ভব হবে না। চর এলাকাগুলোতে ঘুরে দেখা গেছে—তরমুজ, বাদাম ও ডাল ক্ষেতগুলোতে পানি জমে থাকায় ক্ষেতের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। কোনো কোনো কৃষক সেচযন্ত্র দিয়ে সবজি ক্ষেত থেকে পানি সরানোর চেষ্টা করছে।

গাঁওকান্দিয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন মোতালেব বলেন, ‘বিগত বছরগুলোতে এ সময় এমন ভারী বর্ষণ দেখা যায়নি। আমার ইউনিয়নে সকল বোরো ফসল পানির নিচে তলিয়ে আছে।’ উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ এমদাদুল হক খান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মামুনুর রশীদ প্লাবিত এলাকাগুলো পরিদর্শন করেছেন বলে জানা গেছে।

হাকালুকি হাওরের ফসল তলিয়ে গেছে

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা জানান, টানা ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে ফেঞ্চুগঞ্জের কুশিয়ারা নদী ও জুড়ি উপজেলার জুড়ি ও কণ্ঠিনদী দিয়ে পাহাড়ি ঢল নামার ফলে হাকালুকি হাওরের ২২ হাজার হেক্টর জমির বোরো ফসল সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে। কুলাউড়া, জুড়ি, বড়লেখা ও ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা বেষ্টিত হাকালুকি তীরের বসবাসকারী মানুষের সারা বছরের জীবনযাত্রা নির্বাহ করার একমাত্র অবলম্বন বোরো ফসল।

অকাল বন্যা তাদের মুখের ভাত কেড়ে নিয়েছে। কৃষকরা হাকালুকি হাওর তীরে বসে আহাজারি করছে আর চোখের জল ফেলছে।

কুলাউড়া উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ জগলুল হায়দার জানান, আর দেড় মাস সময় পেলে কৃষকের গোলায় হাজার হাজার মণ ধান উঠত। এবার ধানের ফলন ভাল ছিল, অধিকাংশ ধান গাছে ইতোমধ্যে থোড় বেড় হয়ে গিয়েছিল। ৪ দিন ধরে বৃষ্টিপাত হওয়ায় কৃষকরা এ ফসল রক্ষার আশা ছেড়ে দিয়েছে।

ইত্তেফাক/নূহু