সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ড এলাকায় পাহাড় কাটা চক্র আবারো সক্রিয় হয়ে ওঠেছে। তারা প্রতি রাতে একটি পাহাড় কেটে সাবাড় করাসহ পাহাড়ি একটি ছড়া ভরাট করে পানি চলাচলের পথ বন্ধ করে দিয়েছে। এ ঘটনায় পরিবেশ অধিদপ্তর চারজনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা করেছে।
স্থানীয় সূত্রে ও সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের অনন্তপুর এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা আবুল বশরের মালিকানাধীন পাহাড় ভূমিদস্যু-পাহাড়খেকো একটি চক্র রাতের অন্ধকারে গত কয়েক দিনে কেটে সাবাড় করে ফেলে। ভূমিদস্যুরা গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত পাহাড় কাটে। কিন্তু ভূমিদস্যুরা রবিবার থেকে সরকারি অফিস খোলা বিধায় সকালের দিকে একটি স্কেভেটর ও চারটি বুলডোজার সরিয়ে নিয়ে যায়। এই পাহাড় কাটার দায়িত্ব পালন করে লোকমান ও মিনার নামে জনৈক দুই ব্যক্তি। এদিকে মুক্তিযোদ্ধা বশরের ছেলে শাহাদাত বৃহস্পতিবার রাতে পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ জহির উদ্দিনকে বিষয়টি জানান। কিন্তু সরকারি বন্ধ থাকায় পরিবেশ অধিদপ্তর তাত্ক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তবে এ নিয়ে আগে দৈনিক ইত্তেফাকে সচিত্র সংবাদ প্রকাশিত হলে ভূমিদস্যুরা প্রায় দুই মাস পাহাড় কাটা বন্ধ রাখে।
মুক্তিযোদ্ধা বশর জানান, পাহাড় কাটার শুরুতেই যদি পরিবেশ অধিদপ্তর মামলাটি করতো তাহলে ভূমিদস্যুরা পুনরায় পাহাড় কাটার সাহস পেত না। ভূমিদস্যুরা এ পর্যন্ত প্রায় দুই একর পাহাড় কেটে ফেলে। তাছাড়া পাহাড়খেকো ভূমিদস্যুরা ওই এলাকার পাহাড়ি ছড়া ভরাট করে পানি চলাচলের পথ বন্ধ করে দেয়।
এদিকে, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক এজহারুল ইসলাম বাদী হয়ে চারজনের বিরুদ্ধে সীতাকুণ্ড থানায় মামলা দায়ের করে। মামলার আসামিরা হলো—মোঃ মিজানুর রহমান, ওয়াহিদুল আলম, মোঃ রেজাউল করিম ও মোঃ আব্বাস উদ্দিন। অপরদিকে মুক্তিযোদ্ধা বশর চট্টগ্রাম সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে কাজী সারজিল ইবনে সারওয়ারকে বিবাদী করে মামলা করে ছিল।
চট্টগ্রাম অঞ্চল পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মোঃ মাসুদ করিম জানান, আমরা পাহাড় কর্তনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করেছি। এখন পুলিশ তাদেরকে খুঁজে আইনের আওতায় আনবে।
ইত্তেফাক/নূহু
