‘ব্যাংকিং এটলাস’ প্রতিবেদন

ব্যাংকিং সেবা গ্রহণে দক্ষিণাঞ্চল এগিয়ে

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০১৭, ০৯:১৭
 
দেশের উত্তরাঞ্চলের তুলনায় দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের মাঝে ব্যাংকের সেবা নেওয়ার হার তুলনামূলক বেশি লক্ষ করা গেছে। সেই সঙ্গে দেশের মানুষের সঞ্চয় প্রবণতাও বেড়েছে। ব্যাংকগুলোতে অর্থ জমা করার পরিমাণ পাঁচ বছরের ব্যবধানে দ্বিগুণ বেড়েছে। ‘ব্যাংকিং এটলাস’ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। ইউএনডিপির সহায়তায় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) প্রথমবারের মতো দেশে ব্যাংকগুলোর অবস্থান ও এর সঙ্গে সঞ্চয় ও ব্যাংক হিসাবধারীদের তথ্য নিয়ে উপজেলা পর্যায়ে তথ্যের বিন্যাস করে এই ‘এটলাস’ প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে। এতে দেখা গেছে ২০১৫ সালের দেওয়া তথ্যানুযায়ী ব্যাংকগুলোর যে শাখার বিস্তার হয়েছে তাতে প্রতি লাখ প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের জন্য গড়ে ১১ দশমিক ৩৪টি শাখা রয়েছে। এগুলোর মধ্যে সরকারি ব্যাংকের শাখা রয়েছে ৬ দশমিক ৬টি আর বেসরকারি ব্যাংকের শাখা রয়েছে ৪ দশমিক ৭টি।
 
প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের গড়ে ব্যাংক হিসাবে ১ লাখ ১৮ হাজার টাকা আমানত রয়েছে। ২০১০ সালে এর পরিমাণ ছিল ৪৪ হাজার ৫শ টাকা। গড়ে প্রতিটি ব্যাংক হিসাবের বিপরীতে ঋণ দেওয়া হয়েছে ২৪ হাজার ৯শ টাকা। ২০১০ সালে এই হার ছিল ১৭ হাজার ১শ টাকা।
 
এটলাস প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, দেশের উপজেলা পর্যায়ে ব্যাংকিং সেবার বিস্তার ঘটেছে ব্যাপক হারে। উল্লিখিত সময়ে দেশের ব্যাংকিং খাতের যে বিস্তার হয়েছে তাতে গ্রামীণ পর্যায়ে শাখা বেশি খোলা হয়েছে। এ জন্য বেসরকারি ব্যাংকের উদ্যোগ বেশি ছিল। প্রতিবেদনে দেখা গেছে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট ছাড়া দেশের দক্ষিণ অঞ্চলে ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা বেড়েছে দ্রুত হারে। যদিও দেশের দক্ষিণ অঞ্চলে ব্যাংকের ঘনত্ব তুলনামূলক কম।
 
ব্যাংকিং সেবার এমন তথ্যের বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. বিরূপাক্ষ পাল ইত্তেফাককে বলেন, ব্যাংক হিসাবে জমা বৃদ্ধি পাওয়ার মানে হলো মানুষের মাঝে সঞ্চয় প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এর জন্য রেমিট্যান্সের একটি বড় অবদান রয়েছে। কারণ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকেও মানুষ বিদেশে যাচ্ছে কাজের সন্ধানে। দক্ষিণাঞ্চলের ব্যাংকগুলোতে অন্তর্ভুক্তি বেশি হচ্ছে, অর্থাত্ সেখানে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাচ্ছে যা নীতি-নির্ধারকদের জন্য বড় বার্তা। তা ছাড়া প্রতি লাখে ১১টির বেশি ব্যাংকের শাখা হলেও দেশে অনলাইন সেবা গ্রহণের হার অনেক কম। এমনকি ভারতেও বাংলাদেশের চেয়ে বেশি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে। ব্যাংকের শাখা বাড়লেও এর থেকে সুবিধা তখনই পাওয়া যাবে যখন অনলাইনে ব্যাংকের সুবিধা বাড়ানো হবে। এখনো দেশে অনেক সেবার বিপরীতে অর্থ প্রেরণের জন্য ব্যাংকে সশরীরে যেতে হয়। সেই সঙ্গে অনেকেই হয়রানির শিকার হয়। অনলাইনে ব্যাংকিং সেবা বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের মানুষকে আরো বেশি আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে নিয়ে আসা সম্ভব। এর মাধ্যমে ব্যাংকে সঞ্চয় আরো বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি মনে করেন।
 
ইত্তেফাক/রাফাত