পহেলা বৈশাখ আসতে আর মাত্র চারদিন বাকি। নাওয়া খাওয়ার সময় নেই পাল পাড়ায়। ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় প্রতিটি পাল পাড়ার পাকপোড়ানোর চুলায় জ্বলছে আগুন। মাটি পোড়ার গন্ধ ভেসে আসছে দূর থেকে। কিন্তু তাদের ব্যস্ততা আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে চৈত্রের রোদ-বৃষ্টি।
উপজেলার পুটিজানা ইউনিয়নের বেরিবাড়ি গ্রাম। গ্রামটি উপজেলায় পরিচিত পালপাড়া হিসেবে। এ গ্রামে প্রায় ৮০টি পরিবার রয়েছে। পৈত্রিক ভিটেমাটিতে বাপ দাদার পেশাকে আঁঁকড়ে ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন তারা। অনেকে আবার এ পেশা ছেড়েও দিয়েছেন অনেক আগেই। যে কয়েকজন আছেন, চৈত্র মাস আসলেই বৈশাখকে সামনে রেখে চলে তাদের কর্মযজ্ঞ।
স্বপন কুমার পাল বলেন, পাল পাড়ার ৮০টি পরিবার বৈশাখ উপলক্ষে তাদের নিপুণ হাতে তৈরি করে নানা রঙের বাহারি মাটির জিনিসপত্র। প্রতিটি পরিবার ৩০ থেকে ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করতে পারবেন বৈশাখে। বছরের মধ্যে বৈশাখ মাসেই তাদের তৈরি মাটির জিনিস সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়ে থাকে।
বৈশাখ উপলক্ষে প্রতিটি ঘরে মাটির তৈরি হাতি, বাঘ, ঘোড়া, হরিণ, কাঠাল, আম, কলস, ব্যাংক, পিঠে তৈরির নানা ছাঁচ তৈরি করছে আর রৌদে শুকাচ্ছেন। চৈত্র মাসের শুরু থেকে তারা এসব শিল্পকর্ম তৈরি শুরু করেছেন, চলবে শেষ চৈত্রের সপ্তাহ পর্যন্ত। নিয়তি রানি পাল বলেন, এখন মাটি, লাকরি, কোরা (ধানের চিটা) রঙ সহ সবকিছুই ক্রয় করতে হয়। এক কাঠা জমির সর্বোচ্চ ৮ ইঞ্চি পরিমান গভীর করে মাটি কেটে আনতে জমির মালিককে দিতে হয় ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা। এক কাঠা জমির মাটি দিয়ে তৈরি জিনিসপত্রের জন্য রং কিনতে হয় কমপক্ষে ৫ হাজার টাকা। একসময় কিছুই কিনতে হতো না। সবকিছু মিলে এখন আগের মতো লাভ হয় না। আর এখন ধাতব তৈজসপত্রসহ প্লাস্টিক জিনিস বাজারে সহজলভ্য হওয়ায় মাটির তৈরি জিনিসপত্রের চাহিদা কমে গেছে। যে কারণে বাপ দাদাদের এ পেশা ছেড়ে দিচ্ছে অনেকেই।
সরেজমিনে বেরিবাড়ি পাল পাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, অঞ্জলি রানি পাল তার নিপুণ হাতে মাটি দিয়ে হারিণ, হাতি, ষাঁড় তৈরি করছে আর উঠানেই শুকাচ্ছে। মৃহিশল্প নিয়ে কথা হয় তার সাথে। এসম তিনি বলেন, আগের চেয়ে জিনিসপত্র কম বিক্রি হলেও বাজার মূল্য পাওয়া যায় বেশি। তিনি বলেন, মেলা উপলক্ষে হাতি ঘোড়া, বাঘ, হরিণ, পুতুলসহ বিভিন্ন খেলনা জাতিয় জিনিস তৈরি করছি। বৈশাখ মাস শুরুর এক সপ্তাহ আগে থেকে এসব রং করা হবে। বৈশাখ মাস জুড়ে দেশের বিভিন্ন গ্রাম গঞ্জের মেলায় বিক্রি করা হবে। একমাস মেলায় ঠিকমত বেচাকেনা করতে পারলে খরচ বাদে ৫০ হাজার টাকার মতো লাভ হওয়ার সম্ভাবান রয়েছে। চৈত্রমাসে রোদ বৃষ্টির বৈরি আবহাওয়ায় অনেক কাজ পিছিয়ে পড়েছে। দুএকদিন রোদ থাকলে তা পুষিয়ে নেয়া যাবে বলে এক গাল হাসলেন তিনি।
