ফেডারেশন কাপে আবাহনীর হ্যাটট্রিক ট্রফি

আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০১৮, ২১:৫৭

ফেডারেশন কাপ ফুটবলের ফাইনাল শেষ। আবাহনী ৩-১ গোলে বসুন্ধরা কিংকে হারিয়ে ফেডারেশন কাপ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন। রেফারি মিজানুর রহমান উত্তেজনায় পোড়ানো চার লাল কার্ডের এ খেলার শেষ বাঁশি বাজালেন। আগেই ওত পেতে থাকা আবাহনীর সমর্থকরা বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ঢুকে উত্সবে মেতে উঠলেন।

আবাহনীর এমন ট্রফি উত্সব শেষ কবে দেখা গেছে স্মরণ করা গেল না। দলটি আগেও ফেডারেশন কাপে হ্যাটট্টিক চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। পেশাদার লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে হ্যাটট্টিক শিরোপাও জিতেছিল। কিন্তু মাঠে এতো দর্শকের উপস্থিতি ছিল না। ১৯৮৩, ১৯৮৪ এবং ১৯৮৫ সালে প্রথম বিভাগে আবাহনী হ্যাটট্টিক শিরোপা জয়ের পরও সমর্থকরা মাঠে ঢুকে উত্সব করেছিল। দীর্ঘদিন পর আবার সেই মাঠে কয়েক হাজার দর্শক এসে আবাহনীর ফুটবলারদের নিয়ে উত্সব করেছে। দর্শকদের হাতে মুঠোফোন, খেলোয়াড়দের সঙ্গে সেলফি তুলতে পাগলপারা।

আবাহনীর ফুটবল ইতিহাসে স্মরণীয় ফাইনালগুলোর অন্যতম সেরা ছিল গতকাল শুক্রবার, ফেডারেশন কাপের ৩০তম এই আসরে। সোনালী রংয়ের ট্রফি হাতে পেয়ে কাড়াকাড়ি হয়েছে। তাতে খেলোয়াড়দের সাথে যোগ দেন কর্মকর্তারাও। পেছন থেকে হুমড়ি খেয়ে পড়ছিল দর্শক।

বসুন্ধুরা কিংসের বিরুদ্ধে উপভোগ্য ফুটবল খেলেছে আবাহনী। বসুন্ধরা কিংস নিজেদের খেলাটা খেলতে পারেনি। আকাশি নীল জার্সিধারীদের কাছে তাই হার মানতে বাধ্য হয়েছে। তাদের বিশ্বকাপে খেলা কোষ্টারিকার খেলোয়াড় ডানিয়েল কলিন্দ্রেসও ঝলক দেখাতে পারেনি। তাকে বোতলবন্দি করে রেখে আবাহনী দেখিয়ে দিয়েছে কিভাবে ট্রফি জয় করতে হয়।

যদিও বসুন্ধরা কিংস খেলার ২০ মিনিটে গোল করে এগিয়ে যায়। আবাহনীর গোলকিপার সোহেল ফিস্ট করে বল ফেলেন। বসুন্ধরার অধিনায়ক ডানিয়েল বলটা পেয়ে চার পাঁচ ফুটবলারকে ফাঁকি দিয়ে গোল করেন ১-০। বসুন্ধরার হাজার হাজার সমর্থক এদিন জার্সি গায়ে মাঠে হাজির হয়েছিলেন। স্বভাবতই গোলটি তাদের শিরোপা সম্ভাবনায় উল্লাসে মাতোয়ারা করে তোলে।

স্রোতের বিপরীতে গোল হজম করেও  আবাহনী হাল ছাড়েনি। দ্বিতীয়ার্ধে বদলে যাওয়া আবাহনীর খেলায় এলো নতুন ছন্দ। গোল ছিল যেন অপেক্ষায়। কারণ দ্বিতীয়ার্ধের পুরোটা ছিল আবাহনীর নিয়ন্ত্রণে। বসুন্ধরার বাঘা বাঘা সব ফুটবলার তখন ম্রিয়মান। বোতলবন্দি কলিন্দ্রেস। অন্য কেউও কিছু করতে পারছিলেন না।

দ্বিতীয়ার্ধের ১৭তম সেকেন্ডেই নাইজেরিয়ান সানডের শট বসুন্ধরার ক্রসপিসে লেগে ফিরে আসে। এর পাঁচ মিনিটের মধ্যেই সানডে গোল করে সমতা আনেন ১-১। ৭৯ মিনিটে আবাহনীর দ্বিতীয় গোল। সোহেল রানা দ্রুতগতিতে বল নিয়ে ঢুকে পাস বাড়িয়ে দিলে সানডে সেটা গোলে পরিনত করেন ২-১। ৮১ মিনিটে আবাহনীর তৃতীয় ও শেষ গোল এলো ওয়ালীর কর্নারে হাইতির বেলফোর্টের মাথা ছুঁয়ে ৩-১। নতুন ও বড় বাজেটের দল হিসাবে বসুন্ধরা যেভাবে উঠে এসেছিল ফাইনালে সেটা করে দেখাতে পারেনি। আবাহনী তাদের ঐতিহ্যে বলিয়ান হয়ে তুলে নিল সাফল্য।

আবাহনী

সোহেল, ওয়ালী ফয়সাল, তপু বর্মন (টুটুল হোসেন বাদশা), রায়হান হাসান, সোহেল রানা, আতিকুর রহমান ফাহাদ, মিনহিয়োককো (দক্ষিণ কোরিয়া), মাসিহ সাইঘানিহ (আফগানিস্তান), কার্ভেনস ফিল বেলফোর্ট (হাইতি) (মামুন মিয়া), সানডে চিজোবা (নাইজেরিয়া) (নাবীব নেওয়াজ জীবন)।

বসুন্ধরা কিংস

 আনিসুর রহমান জিকো, সুশান্ত ত্রিপুরা, নাসির চৌধুরী, জর্জ গেটর ব্লাস (স্পেন), ইমন বাবু  তৌহিদুল আলম সবুজ), মাসুক মিয়া জনি, মাহবুবুর রহমান সুফিল, আলমগীর রানা (মতিন মিয়া), ইব্রাহিম, বখতিয়ার (কিরগিস্তান), ডানিয়েল কলিন্দ্রেস (অধিনায়ক) (কোষ্টারিকা)। রেফারি ঃ মিজানুর রহমান।   

রোল অব অনার

মৌসুম       চ্যাম্পিয়ন                      রানার্সআপ

১৯৮০       মোহামেডান ও

                ব্রাদার্স যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন

১৯৮১        মোহামেডান                   আবাহনী

১৯৮২        মোহামেডান ও

                আবাহনী যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন

১৯৮৩       মোহামেডান                   আবাহনী 

১৯৮৪        মোহামেডান ও

                আবাহনী (পরিত্যক্ত)

১৯৮৫       আবাহনী                        ব্রাদার্স 

১৯৮৬       আবাহনী                        ব্রাদার্স 

১৯৮৭       মোহামেডান                   ওয়ান্ডারার্স 

১৯৮৮       আবাহনী                        মোহামেডান 

১৯৮৯        মোহামেডান                   আবাহনী

১৯৯১        ব্রাদার্স                          মোহামেডান

১৯৯৪        মুক্তিযোদ্ধা                     আবাহনী

১৯৯৫        মোহামেডান                   আবাহনী

১৯৯৭        আবাহনী                        আরামবাগ

১৯৯৯        আবাহনী                        মুক্তিযোদ্ধা 

২০০০       আবাহনী                        মোহামেডান

২০০১       মুক্তিযোদ্ধা                     আরামবাগ

২০০২       মোহামেডান                   মুক্তিযোদ্ধা

২০০৩       মুক্তিযোদ্ধা                     মোহামেডান

২০০৫       ব্রাদার্স                          মুক্তিযোদ্ধা

২০০৮       মোহামেডান                   আবাহনী

২০০৯       মোহামেডান                   আবাহনী

২০১০       আবাহনী                        শেখ জামাল

২০১১        শেখ জামাল                   বিজেএমসি

২০১২        শেখ রাসেল                   শেখ জামাল

২০১৩       শেখ জামাল                   মুক্তিযোদ্ধা

২০১৫       শেখ জামাল                   মুক্তিযোদ্ধা

২০১৬       আবাহনী                        আরামবাগ

২০১৭       আবাহনী                        চট্টগ্রাম আবাহনী

২০১৮       আবাহনী                        বসুন্ধরা কিংস