‘বৈশ্বিক ব্যাংক ব্যবস্থা হ্যাক করেছে’ মার্কিন সরকার

আপডেট : ১৫ এপ্রিল ২০১৭, ১৯:৪৮
ফাঁস হয়ে যাওয়া কিছু নথিতে মার্কিন সরকার কর্তৃক বৈশ্বিক ব্যাংক ব্যবস্থা ‘হ্যাক করার’ আলামত পাওয়া গেছে। ওই নথিগুলোতে সোসাইটি ফর ওয়ার্ল্ডওয়াইড ইন্টারব্যাংক ফাইন্যান্সিয়াল টেলিকমিউনিকেশন (সুইফট) সিস্টেমে ঢোকার কোড উদ্ধারের দাবি করেছেন সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, এই কোডগুলো ব্যবহার করে সুইফট সিস্টেমে ঢুকে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এনএসএ (ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সি) মধ্যপ্রাচ্য ও লাতিন অঞ্চলের ব্যাংকগুলোর লেনদেন পর্যবেক্ষণ করেছে। তবে সুইফট এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।
 
গত শুক্রবার ‘শ্যাডো ব্রোকারস’ নামে একটি হ্যাকিং গ্রুপ অনলাইনে বেশ কিছু নথি ফাঁস করে। কালোবাজারে এসব গোপন নথির মূল্য ২০ লাখ ডলারেরও বেশি। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, তারা একটি ‘হুইসেল ব্লোয়ার গ্রুপ’। এনএসএর ভেতরেও তাদের সহযোগী রয়েছে, যাদের মাধ্যমে তারা বিভিন্ন গোপন তথ্য ফাঁস করেছে। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা ওই নথিগুলো পর্যালোচনা করে ধারণা করছেন, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এনএসএ মধ্যপ্রাচ্য ও লাতিন অঞ্চলের ব্যাংকগুলোর লেনদেন পর্যবেক্ষণের জন্য সুইফট সিস্টেমে ঢুকেছে। এছাড়া ওই নথিগুলোতে রয়েছে বেশ কয়েকটি কোড, যা ব্যবহার করে অপরাধীরা সুইফট সিস্টেম হ্যাক করতে সক্ষম। ফাঁস হওয়া কয়েকটি নথিতে এনএসএ-র সিল দেখা যায়। এতে বোঝা যায়, শ্যাডো ব্রোকারস যে নথিগুলো হ্যাক করেছে, সে সম্পর্কে আগে থেকেই জানতো এনএসএ। কিন্তু সংশ্লিষ্টদের এ সম্পর্কে সতর্ক করেনি তারা। হ্যাকিংয়ের অভিযোগ আসার পর এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি এনএসএ।
 
এদিকে কথিত হ্যাকিংয়ের বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছে সুইফট। প্রসঙ্গত, সুইফটের মাধ্যমে বিশ্বের ব্যাংকগুলো প্রতিদিন কোটি কোটি ডলার লেনদেন করে থাকে। বেলজিয়াম ভিত্তিক সুইফটের দাবি, তারা প্রতিনিয়ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা আপডেট করে এবং এ সম্পর্কে গ্রাহকদের অবগত করে থাকে। এক বিবৃতিতে সুইফট বলেছে, ‘মূল সুইফট সিস্টেমে অনুমতি ছাড়া কেউ প্রবেশ করেছে, এমন কোনও তথ্য তাদের কাছে নেই। তবে বিভিন্ন ব্যাংকের লোকাল সুইফট সিস্টেম হ্যাক করা হতে পারে।’ অপরদিকে সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, একটি আঞ্চলিক সিস্টেম হ্যাক হওয়া মানেই গোটা সুইফট সিস্টেম হ্যাক হওয়া। 
 
উল্লেখ্য, গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে সুইফট সিস্টেম হ্যাক করে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ৮১ মিলিয়ন ডলার সরিয়ে নেয় হ্যাকাররা।  বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফাঁস হওয়া নথিগুলোতে থাকা কোডগুলো ব্যবহার করে বাংলাদেশ ব্যাংকে সংঘটিত হ্যাকিংয়ের মতো ঘটনাও ঘটানো সম্ভব। বিবিসি ও রয়টার্স।
 
ইত্তেফাক/সাব্বির