লড়াইয়ের প্রতিশ্রুতি দিলেন নাঈম হাসান

আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০১৮, ২২:০৫

স্পোর্টস রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস

দ্বিতীয় দিনেই বেশ জমে উঠেছে চট্টগ্রাম টেস্ট। গতকাল দ্বিতীয় দিন শেষে ক্যারিবিয়ানদের চেয়ে মাত্র ১৩৩ রানে এগিয়ে রয়েছে টাইগাররা। হাতে রয়েছে ৫ উইকেট আর পুরো তিনটি দিন। তবে সাগরিকার উইকেট ইতোমধ্যেই যেমন আচরণ শুরু করেছে, তাতে সাকিবরা প্রতিপক্ষকে কতখানি চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিতে পারবে তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।

গতকাল এক দিনেই ১৭টি উইকেটের পতন দেখেছেন সাগরিকা দর্শকরা। এই ধারা যদি অব্যাহত থাকে তাহলে হয়তো প্রথম টেস্টের পর্দা নামতে পারে আজই। তবে এমন অনিশ্চিত পরিস্থিতিতেও জয়ের আশা ছাড়ছেন না টেস্টে সদ্য অভিষিক্ত স্পিন অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নাঈম হাসান। গতকাল বিকালে সংবাদ সম্মেলনে এসে এমন আশার কথাই শোনালেন তিনি। নাঈম বললেন, ‘আমাদের এখনও ৫টি উইকেট আছে। এখনো তো অলআউট হইনি। এমনো তো হতে পারে যে, আমরা ৩০০ বা ৩৫০ রানের টার্গেট ওদেরকে দিতে পারি। আবার ওইরকম নাও হতে পারে। যদি ওইরকম হয়, তাহলে আমাদের জন্য কাজটা সহজ হবে। আর যদি তা না হয়, তাহলে এখন পুঁজি যতটুকুই আসবে ততটুকু নিয়েই লড়াই করবো।’

আশাবাদী নাঈম আরো বললেন, ‘দ্বিতীয় ইনিংসে আমাদের টার্গেট থাকবে যত বেশি সময় ব্যাটিং করা যায় তত বেশি স্কোর হবে। এটা আমাদের জন্য ভালো হবে। কারণ উইকেট এখন স্পিন সহায়ক। আমাদের টিমে ভালো ভালো স্পিনার আছে- সাকিব ভাই, তাইজুল ভাই, মিরাজ ভাই। আশা করি, সমস্যা হবে না।’

অভিষেক টেস্টে ৫ উইকেট প্রাপ্তির অনুভূতি জানতে চাইলে নাঈম বলেন, ‘অভিষেক টেস্টের কথা মাথায় ছিল না। আমি সবসময় যেরকম বোলিং করি ওইরকমই করেছি। আর উইকেটে বল ঘুরছিল ওইটা কাজে লাগিয়েছি।’

ব্যাট হাতে ২৬ আর বল হাতে ৫ উইকেট। কোনটা বেশি উপভোগ করেছেন- ব্যাটিং না বোলিং? উত্তরে চট্টগ্রামের ছেলে নাঈম জানালেন, ‘আসলে দুইটাই উপভোগ করেছি। টেস্ট ক্রিকেটে সহজ কাজ বলে তো কিছু নেই। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী করতে হয়। পরিকল্পনা থাকলে সমস্যা থাকে না। ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্টে কোনো চাপের মধ্যে ছিলেন না জানিয়ে নাঈম বলেন, স্বাভাবিক যে খেলাটা খেলি সেটাই খেলেছি। সিনিয়ররা সবাই সহযোগিতা করছেন।’

ঘরের মাঠে খেলার অনুভূতি কেমন জানতে চাইলে নাঈম বলেন, ‘ঘরের মাঠ বা বাইরের মাঠ বলে কোনো ব্যাপার আমার কাছে নেই। সব মাঠই সেম।’

এই ম্যাচে ৫ উইকেট নিয়ে নাঈম টপকে গেলেন প্যাট কামিন্সকে। ২০১১ সালে ১৮ বছর ৬ মাস ৯ দিন বয়সে নিজের অভিষেকে ৭৯ রানে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ান পেসার প্যাট কামিন্স। এতদিন ধরে এটিই ছিল সবচেয়ে কম বয়সে অভিষেকে পাঁচ কিংবা তার বেশি উইকেট নেয়ার রেকর্ড। অভিষেকে সর্বকনিষ্ঠ ক্রিকেটার হিসেবে পাঁচ উইকেট নেয়ার বিশ্বরেকর্ড গড়লেও, অল্পের জন্য সবমিলিয়ে সর্বকনিষ্ঠ ক্রিকেটার হিসেবে পাঁচ উইকেট নেয়ার বিশ্বরেকর্ড গড়া হয়নি নাঈমের। ১৯৫৮ সালে ১৬ বছর ৯ মাস ৩০ দিন বয়সে পাঁচ উইকেট নিয়ে এ রেকর্ড নিজের দখলে রেখেছেন পাকিস্তানের উসমান ঘানি। ১৭ বছর ১১ মাস ২০ দিন বয়সে এ তালিকার তিন নম্বরে উঠে নাঈম চারে পাঠিয়ে দিয়েছেন স্বদেশি এনামুল হক জুনিয়রকে। এনাম জুনিয়র পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন ১৮ বছর ৬ মাস ১ দিন বয়সে।

প্রসঙ্গক্রমে নাঈম আরো জানালেন, গতকাল তার নিজের শিকার করা ৫ উইকেটের মধ্যে সবচেয়ে তৃপ্তি পেয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের টেল এন্ডার ওয়ারিকেনকে বোল্ড করে।