মো. আমিরুজ্জামান, সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা
সৈয়দপুর-ঢাকা রুটে বাংলাদেশ বিমানের যাত্রী কমছে বলে অভিযোগে জানা গেছে।
গত সোমবার সৈয়দপুর বিমানবন্দরে অবতরণকারী বাংলাদেশ বিমানের যাত্রী ব্যবসায়ী সিদ্দুকুল আলম, আইয়ুব হোসেনসহ কয়েকজন অভিযোগ করে জানান, বাংলাদেশ বিমানের ভাড়া কম থাকায় যাত্রী সংখ্যা বেসরকারি ফ্লাইটের চেয়ে যাত্রী বেশি হওয়ার কথা। কিন্তু তা হচ্ছে না, কারণ বিমানের যাত্রী সেবার মান খুব একটা ভালো না। পক্ষান্তরে, বেসরকারি সংস্থাগুলো তাদের যাত্রীদের সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা করে চলেছে। এর ফলে ভাড়া বেশি হওয়া সত্ত্বেও তাদের যাত্রী সংখ্যা ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত সোমবার বাংলাদেশ বিমানের সকাল ৮টা ৩০ মিনিটের ফ্লাইটে ঢাকা থেকে মাত্র ২৪ জন যাত্রী নিয়ে অবতরণ করে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে। আর সৈয়দপুর থেকে মাত্র ১৪ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে উড়ে যায় বাংলাদেশ বিমান। অথচ তার পর পরই নভোএয়ারের একটি ফ্লাইট পরিপূর্ণ যাত্রী নিয়ে অবতরণ করে। অর্থাত্ ৭২ আসনের সবগুলোতেই যাত্রী ছিল।
এ ব্যাপারে কথা বললে মাওয়া ট্রাভেল এজেন্সির ম্যানেজার আলমগীর হোসেন জানান, ঢাকা-সৈয়দপুর রুটে কয়েক বছরের ব্যবধানে প্রায় ৫ গুণ বেশি ফ্লাইট উঠানামা করছে। বর্তমানে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে বাংলাদেশ বিমানসহ ৩টি বেসরকারি কোম্পানির ফ্লাইট চলাচল করছে। এখানে প্রতিদিন এসব কোম্পানির ১১টি ফ্লাইট উঠানামা করছে। এরমধ্যে বাংলাদেশ বিমানের ২টি, ইউএস বাংলার ৫টি ও নভোএয়ারের ৪টি। যাত্রী সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণেই কোম্পানিগুলো দিন দিন তাদের ফ্লাইট সংখ্যা বৃদ্ধি করছে। তারপরও বেসরকারি কোম্পানিগুলোর টিকিট পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছে যাত্রীর চাপে। কিন্তু বাংলাদেশ বিমানের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে এর উল্টো চিত্র। অর্থাত্ দিন দিন বাংলাদেশ বিমানের যাত্রী সংখ্যা কমে যাচ্ছে।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ বিমানের সৈয়দপুর ডিস্ট্রিক ম্যানেজার মাহবুব আল হাসানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বললে তিনি যাত্রী সংখ্যা কম থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, গত সোমবার বাংলাদেশ বিমানে ঢাকা থেকে ২৪ জন ও সৈয়দপুর থেকে ১৪ জন যাত্রী নিয়ে বিমান চলাচল করেছে।
পরে বাংলাদেশ বিমানের জিএম শাকিল মেরাজের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি যাত্রী সংখ্যা কমে যাওয়ার কথা স্বীকার করে জানান, হঠাত্ করে বিমানের ঢাকা-সৈয়দপুর রুটে সপ্তাহে ১৪টি ফ্লাইট শুরু করায় যাত্রী সংকট দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, বরাবরই বিমানের যাত্রী সন্তোষজনক। আশা করছি আগামীতে বিমানের যাত্রী সংখ্যা আরও বাড়বে এবং তাদের যথাযথ সেবা প্রদানে বিমানের কর্মী বাহিনী সদা প্রস্তুত ও সচেষ্ট আছে এবং আগামীতে থাকবে।
