ইত্তেফাক ডেস্ক
বৈরী আবহাওয়ার কারণে আম ও লিচুর ফলন নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন রংপুরের বদরগঞ্জ ও দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার চাষিরা। আমাদের সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর:
বদরগঞ্জ (রংপুর): কালবৈশাখী ঝড়, সেই সাথে শিলা বৃষ্টির শঙ্কায় উপজেলার আম ও লিচু চাষিরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারছে না। কয়েকদিন আগে আচমকা কালবৈশাখীর ছোঁয়া আশঙ্কার মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। বর্তমানে আম-লিচুর মুকুলের পেট চিড়ে বের হয়েছে দানা। একেকটি দানাই যেন আম ও লিচু চাষির আগামীর স্বপ্ন। কিন্তু হঠাত্ প্রকৃতির এই বিমুখতায় যেন তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।
বদরগঞ্জ উপজেলার কালুপাড়া ইউপির আম ও লিচু বাগান চাষি চয়ন জানান, শুরুতে আম ও লিচু বাগানে পর্যাপ্ত মুকুল এসেছিল। অনেক পরিশ্রম আর পরিচর্যা করে আম ও লিচুর দানাতে ভরে গেছে বাগান। এখন খুব টেনশন হচ্ছে যদি ঝড়ো হাওয়াসহ শিলা বৃষ্টি হয় তবে সর্বস্বান্ত হয়ে যাবেন তিনি।
উপজেলার রামনাথপুর ইউপির ঝাকুয়াপাড়া গ্রামের আম চাষি হাসান জানান, তার আম বাগানে হাড়িভাঙ্গা জাতের প্রায় ৪ হাজার গাছ আছে ৪০ বিঘা জমিতে। এর মধ্যে ২ হাজার গাছে গত বছর হতে আম ধরছে। এবার গাছে যে পরিমাণ আমের দানা এসেছে তাতে আবহাওয়া যদি বৈরী না হয় গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ আম উত্পাদনের আশা করছেন তিনি। তবে আচমকা ঝড় আর শিলা বৃষ্টি দুশ্চিন্তার মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। বদরগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা কনক রায় জানান, এ উপজেলায় আম বাগান রয়েছে ৫৪০ হেক্টর আর লিচু বাগান রয়েছে ৩৭০ হেক্টর জমিতে। যা গত বছরের তুলনায় বেশি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আম ও লিচুর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার মাহাবুবর রহমান জানান, বদরগঞ্জ উপজেলায় আম বাগানের মধ্যে হাড়িভাঙ্গা জাতের আম বাগানই রয়েছে বেশি। সেই সাথে রয়েছে লিচু বাগান। আবহাওয়া শেষ পর্যন্ত অনুকূলে থাকলে আম ও লিচু চাষিরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন।
কাহারোল (দিনাজপুুর): কাহারোল উপজেলা লিচুর গ্রাম হিসেবে পরিচিত। লিচু চাষিদের মুখে এবার প্রায় দেড় কোটি টাকার হাসির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে লিচুর কুড়ি ধরার সময় চৈত্রমাসেই ঝড়-শিলা বৃষ্টির আশঙ্কায় আগাম লিচু বাগান কেনায় ব্যাপারিরা ঝিমিয়ে রয়েছেন। কেনা বেচা কম চলছে লিচুর বাগান। লিচুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, বাগান মালিকেরা বাগানগুলোতে বালাই দমনে কীটনাশক স্প্রে করছেন। টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার লিচু ব্যবসায়ী এখানে বাগান কিনতে এসেছে বলে জানালেন লিচু চাষি হরেন্দ্র নাথ রায়। তারা বহুদিন ধরে এসব বাগানে লিচু কিনে ব্যবসা করে আসছেন। ইতোমধ্যে অনেক বিক্রি হয়ে গেছে। ব্যবসায়ীরা দেখে শুনে বাগান ক্রয় করছেন। সাভারের লিচু ব্যবসায়ী জালাল উদ্দীন বলেন, প্রায় ১৫ বছর ধরে এ এলাকায় লিচুর বাগান ক্রয় করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করে থাকি।
কাহারোল উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবু জাফর মো. সাদেক জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে লিচুর ফলন ভালো হবে এবং বাগান চাষিরা ভালো দাম পাবে। কৃষি বিভাগ বাগান মালিকদের সকল প্রকার পরামর্শ ও সহযোগিতা করে আসছে।
