বিশ্বে ডিজিটাল মিডিয়া দ্রুতই প্রসার লাভ করছে। অনলাইন নিউজ পোর্টালের সংখ্যা বাড়ছে পাল্লা দিয়ে। প্রিন্টি মিডিয়াও তাদের অনলাইন সংস্করণের ক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই। কোনো কোনো প্রিন্ট মিডিয়ার প্রিন্ট সংস্করণের চেয়ে অনলাইনের পাঠক সংখ্যা বেশি। ডিজিটাল মিডিয়া নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মুক্ত করছে। তবে এই ডিজিটাল মিডিয়ার নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ ও বাস্তবতাও আছে। ডিজিটাল মিডিয়ার নতুন চ্যালেঞ্জ ও বাস্তবতার বিষয় সচেতন হতে আহ্বান জানান বাংলাদেশ ও ভারতের সিনিয়র সাংবাদিকরা।
গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘ইন্দো-বাংলা সেমিনারে ‘ডিজিটাল মিডিয়ার হুমকি ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন তারা ।
বিশ্ব মুক্তগণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করে কমনওলেয়থ জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (সিজেএ) বাংলাদেশ চ্যাপ্টার।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি চিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। আরো বক্তব্য রাখেন ভারতের টেলিগ্রাফের নয়াদিল্লি ব্যুরো চিফ জয়ন্ত রায়, সিজেএএর প্রেসিডেন্ট এমিরেটাস হাসান শাহরিয়ার, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি শফিকুর রহমান, সিজেএ-এর সভাপতি মহেন্দ্র ভেদ, প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম প্রমুখ। সেমিনারে সভাপত্বি করেন সিজেএ-এর বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সভাপতি সিনিয়র সাংবাদিক সালেহ চৌধুরী। সাধারণ সম্পাদক শ্যামল দত্তের সঞ্চালনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন তথ্য-প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ মোস্তাফা জাব্বার।
প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, ডিজিটাল মিডিয়া বা অনলাইন নিউজ পোর্টাল এখন সময়ের দাবি। ডিজিটাল জগতের প্রতিনিধিত্ব করে প্রধানত তরুণরা। অনেক সময় তরুণদের দায়িত্বজ্ঞান ও অভিজ্ঞতার অভাবে এর ইতিবাচক দিকটি ঝুঁকির মুখে পড়ে। তাই, সনাতনী গণমাধ্যম হতে ডিজিটাল গণমাধ্যমে সহজতর উপায়ে উত্তরণের জন্য নেতৃস্থানীয় গণমাধ্যমের অভিজ্ঞ সাংবাদিকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
জয়ন্ত রায় বলেন, সমগ্র বিশ্ব এখন অনলাইনভিত্তিক মানুষ এখন আর টিভি চ্যানেল পত্রিকা খুঁজতে চায় না। তারা স্মার্ট ফোন ব্যবহার করে যেখানে আছেন সেখান থেকে আপডেট থাকতে চান।
হাসান শাহরিয়ার বলেন, বিভিন্ন নির্বাচনে সামাজিক মাধ্যমগুলো ভূমিকা রেখেছে। অনলাইন নিউজ পোর্টালে সাথে সাথে নিউজ পাওয়া যায়। যে ঘটনা ঘটে যায় তা অনলাইনে জানার পর পরের দিন কেন মানুষ পেপারে একই নিউজ পড়বে। আমাদের ভাবতে হবে কিভাবে আমরা প্রিন্ট মিডিয়াকে বাঁচিয়ে রাখব।
আব্দুল কাইয়ুম বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় আরো দশ বছর সময় প্রিন্টি সংস্করণ রাজত্ব করবে। আমাদের সব সময় আপডেট সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।
মূল প্রবন্ধে বলা হয় ২০০৮ সালে দেশে ১২ লাথ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী থাকলে বর্তমানে তা ৬ কোটিতে পৌঁছে। ১৩ কোটি মানুষ মোবাইল ব্যবহার করে ৪ কোটি মানুষ আছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তাই যেমন নতুন চ্যালেঞ্জ আছে আছে নতুন বাস্তবতা।
ইত্তেফাক/নূহু
