সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধের দাবিতে লামা ও আলীকদমে সড়ক অবরোধ

আপডেট : ০৬ মে ২০১৭, ১৮:৫৬
ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ম্রো সম্প্রদায়ের আহ্বানে শনিবার লামা ও আলীকদমে সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। 
 
জেএসএস ও ইউপিডিএফের হত্যা, গুম, চাঁদাবাজিসহ সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধের দাবিতে এই অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়েছে বলে ম্রো কমান্ডার ইয়াংলক ম্রো জানিয়েছেন। অবরোধ চলাকালে ফাঁসিয়াখালী লামা-সড়ক, ফাঁসিয়াখালী-আলীকদম সড়ক ও লামা-সুয়ালক সড়কসহ উপজেলা দুটি আন্তঃসড়কে কোনো ধরণের যানবাহন চলাচল করেনি। 
 
 
এদিকে শনিবার ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য এর নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের নাগরিক প্রতিনিধি দল স্থানীয় জনগণের প্রতিরোধের মুখে লামা ও বান্দরবানে প্রবেশ করতে পারেনি। 
 
লামা এবং আলীকদম উপজেলায় জেএসএস ও ইউপিডিএফের হত্যা, অপহরণ চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের কারণে এলাকার শান্তি ও সম্প্রীতি নষ্ট হচ্ছে মর্মে ম্রো নেতাসহ স্থানীয় জনগণ অভিযোগ করেছেন।
 
ম্রো নেতা ইয়াংলক ম্রো, মেনরং ম্রো ও মাংবুচি ম্রো জানিয়েছেন, সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের আর সহ্য করা হবে না। ম্রো জনগোষ্ঠীর নেতৃত্বে লামা ও আলীকদমের পাহাড় থেকে সন্ত্রাসীদের বিতাড়িত করে হবে।
IMG01
শনিবার ন্যাপ ঐক্যের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি জিয়া উদ্দিন তারিক আলী, আইইডি নির্বাহী পরিচালক নুমান আহম্মদ খান, জীব বৈচিত্র্য বিষয়ক গবেষক পাভেল পার্থসহ ১৪ জনের একটি নাগরিক প্রতিনিধি দল জেএসএস এর সহযোগিতায় লামা উপজেলার কয়েকটি এলাকা সরেজমিন পরিদর্শনে আসেন।
 
ইউপি মেম্বার শহিদুজ্জামান জানিয়েছেন, জেএসএস এর সহযোগিতায় নাগরিক প্রতিনিধি দলের নামে বহিরাগত কিছু লোক শান্তি ও সম্প্রীতি ধ্বংসের জন্য উস্কানিমূলক কার্যক্রম করতে লামায় আসেন। সকালে ইয়াংছায় পৌঁছালে গণপ্রতিরোধের মুখে নাগরিক প্রতিনিধি দলের সদস্যরা লামা ছেড়ে যেতে বাধ্য হন।
IMG2
ন্যাপ ঐক্যের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, ‘আমরা নাগরিক হিসেবে লামায় গিয়েছিলাম কিন্তু অবাঞ্চিত ঘোষণা করে আমাদের লামায় প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। সেখান থেকে বান্দরবানে যেতে চেয়েছিলাম সেখানেও আমাদের প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি।’
 
আলীকদম জোন কমান্ডার লে. কর্নেল মাহববুর রহমান পিএসসি জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষ যারা এখানকার শান্তি চায়, তারাই প্রতিরোধ করেছে।
 
অবরোধে লামা-আলীকদমের সাধারণ মানুষ স্বতঃর্ফূতভাবে অংশগ্রহণ করে। লাইনঝিরি এলাকায় চংবট ম্রো, উভাথোয়াই মার্মাসহ শতাধিক ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী অবরোধ করে।
 
লামা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, শনিবার সকাল থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে কোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। 
 
ইত্তেফাক/ইউবি