দুই ছাত্রী গণধর্ষণ : আসামিদের গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ

আপডেট : ০৭ মে ২০১৭, ২০:০৫
রাজধানীতে গুলশানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী গণধর্ষণের ঘটনায় পুলিশ রবিবার পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি। 
 
অপরদিকে দুই ছাত্রীর ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য পাঁচ সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের (ঢামেক) ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ড. সোহেল মাহমুদকে কমিটির প্রধান করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- মমতাজ আরা, নিলুফার ইয়াসমিন, কবিতা সাহা ও কবির সোহেল। 
 
রবিবার দুপুর ১টার দিকে বনানী থানার দুই নারী পুলিশ ভুক্তভোগীদের (দুই ছাত্রী)  ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার থেকে তাদেরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। 
 
গণধর্ষণের শিকার দুই ছাত্রীর একজন শনিবার বনানী থানায় বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার আসামিরা হলেন সাফায়েত আহমেদ, নাইম আশরাফ, সাফায়েতের গাড়ি চালক বিল্লাল হোসেন, বডিগার্ড (অজ্ঞাত) ও সাদনান সাকিফকে।
 
এদিকে ধর্ষণের ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে উপর মহলে মোটা অংকের টাকা খরচের অভিযোগ উঠেছে। আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় পুলিশ আসামিদের নির্দোশ প্রমাণে নানা ধরনের তৎপড়তা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
 
এ ব্যাপারে ডিএমপির গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) আবদুল আহাদ বলেন,  আসামিদের ধরতে সর্বত্র চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে রবিবার পর্যন্ত তাদের অবস্থান নিশ্চিত করা যায়নি।
 
প্রভাবশালী হওয়ায় আসামিদের গ্রেফতার করা হচ্ছে না এমন অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, তারা যতই প্রভাবশালী হোক না কেন তাদের শিগগিরই গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে। 
 
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ড. সোহেল মাহমুদ বলেন, ভিকটিমদের মাক্রোবায়োলজি, রেডিওলজিক্যাল এবং ডিএনএ প্রোফাইলিং  পরীক্ষার জন্য তাদেরকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তবে পরীক্ষা শেষে প্রতিবেদন পেতে ১৫/২০ দিন সময় লাগবে। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর এ বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে। তবে ঘটনাটি বেশ কিছুদিন আগের হওয়ায় ধর্ষণের আলামত পাওয়া কঠিন হবে। তাই এখন আমরা তথ্য প্রমানের (এভিডেন্সেরও ওপর) ওরপ নির্ভরশীল।
 
পুলিশ ও ভিকটিম সূত্রে জানা গেছে, ধর্ষণের শিকার দুই তরুণী রাজধানীর দুটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। গত ২৮ মার্চ পূর্বপরিচিত সাদাত আহমেদ ও নাইম আশরাফ ওই শিক্ষার্থীদের জন্মদিনের দাওয়াত দেয়। ওইদিনই তারা ওই ছাত্রীদের বনানীর কে ব্লকের ২৭ নম্বর সড়কের ৪৯ নম্বর দ্য রেইন ট্রি নামের একটি হোটেলে নিয়ে যায়। সেখানে জন্মদিনের অনুষ্ঠান চলার সময় দুই তরুণীকে হোটেলের একটি কক্ষে আটকে রেখে মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। পরদিন বিষয়টি জানাজানি হলে হত্যার পর লাশ গুম করার ভয় দেখিয়ে তাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরে দুই তরুণী তাদের নিকেতনের বাসায় ফিরে আসে। প্রথমে ভয়ে বিষয়টি কাউকে না জানালেও পরে পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তারা মামলা করার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু আসামিরা প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান হওয়ায় বনানী থানা পুলিশ প্রথমে তাদের মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানায়।
 
ইত্তেফাক/ইউবি