মেঘনা নদীতে ট্রলার ডুবির দুদিন পর প্রিসাইডিং অফিসার বোরহান উদ্দিনের মরদেহ মঙ্গলবার বিকালে উদ্ধার হয়েছে। দুর্ঘটনাস্থল নারায়ণগঞ্জের চরহোগলা গ্রামের কাছে মেঘনা নদীতে লাশটি ভেসে ওঠে। লাশটি পুলিশ উদ্ধার করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে।
বোরহান উদ্দিন চরকিশোরগঞ্জ এলাকার চরহোগলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোট কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলেন। তিনি সোনারগাঁও উপজেলার মেঘনাঘাট শাখার ইউসিবি ব্যাংকের ব্যবস্থাপক। তার বাড়ি নরসিংদী রায়পুরা উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের রামনগর গ্রামে।
এ নিয়ে ট্রলার ডুবিতে নিখোঁজ দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হলো। তবে এখনও নারায়নগঞ্জ ট্রাফিক পুলিশের এটিএসআই মো. সেলিম নিখোঁজ রয়েছেন।
নারায়ণগঞ্জের কলাগাছিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইন্সপেক্টর মোস্তাফিজুর রহমান জানান, নিখোঁজ পুলিশ সদস্যের সন্ধানে মেঘনা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে কোস্টগার্ড, ফায়ার সার্ভিস, নৌ-পুলিশ ও বিআইডব্লিউটিএ যৌথভাবে উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে।
আগের দিন সোমবার সকালে ট্রলার ডুবিতে নিখোঁজ রিতা খাতুন নামে এক নারী আনসার সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। রিতা নরসিংদী জেলার মনহরদি উপজেলার বড়চাপা গ্রামের আবুল হানিফের মেয়ে। তিনি বরপা চেঙ্গইন এলাকায় থাকতেন।
উপজেলা নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শেষে রবিবার সন্ধ্যায় ৬টার দিকে প্রিসাইডিং অফিসারসহ একটি টিম উপজেলা সদরে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে একই উপজেরার চরহোগলা এলাকা সংলগ্ন মেঘনা নদীতে ঝড়ের কবলে ট্রলার ডুবে যায়। এ সময় নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ১৬ জন এবং ট্রলারটির দুই মাঝি তীরে উঠতে সক্ষম হলেও তিনজন নিখোঁজ হন।
প্রাণে বেঁচে যাওয়া নুরুল ইসলাম (নায়েক), কনস্টেবল আরিফ, ওয়াকিল ইসলাম (পিসি), মাদ্রাসা শিক্ষক রুহুল আমিন, আনসার সদস্য ফরিদ, আবু তাহের, হিমেল, রসিদ, মানিক মিয়া, দেলোয়ার হোসেন, খাদিজা বেগম, আকলিমা, রাজিয়া ও ট্রলারের মাঝি শাহ পরান রয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ মানিকগঞ্জে এশিউর কোম্পানির হাত থেকে জমি রক্ষার দাবিতে কৃষকের মানববন্ধন
এ দুর্ঘটনায় দুটি অস্ত্র এবং ব্যালটসহ নির্বাচন সামগ্রী মেঘনায় তলিয়ে যায়।
ইত্তেফাক/নূহু

