মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লক্সের অভ্যন্তরে চিকিৎসক কোয়ার্টারে আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আর এম ও) ডাঃ আব্দুর রকিব গড়ে তুলেছেন বেসরকারি ক্লিনিক। প্রায় ২ বছর তিনি এ ক্লিনিকটি চালিয়ে আসছেন। অবশেষে নামহীন ডাঃ আব্দুর রকিবের ওই ক্লিনিকটি সিভিল সার্জনের নির্দেশে বৃহস্পতিবার অপসারণ করা হয়েছে।
জানা যায়, ডাঃ আব্দুর রকিব ৭ আগষ্ট ২০১৪ সালে ওই হাসপাতালে যোগদান করেন এবং ২৩ আগষ্ট থেকে তিনি আবাসিক মেডিক্যাল অফিসারের দায়িত্ব পান। দায়িত্ব গ্রহনের পর অফিসার কোয়ার্টারে যাদের থাকার কথা তাদের না থাকার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ৩ তলা বিশিষ্ট আবাসিক কোয়ার্টারের ৬টি ফ্লাটের ৩টি ফ্লাট একাই ব্যবহার করেন। নীচতলায় তিনি প্রাইভেট রোগী দেখেন, পাশের দুটি কক্ষে তার প্রাইভেট রোগীদের সেবার জন্য, হাসপাতালের রোগীদের জন্য বরাদ্দ থাকা ১টি আধুনিক মানের বেডসহ ৬টি সবচেয়ে ভাল বেড স্যালাইন ষ্ট্যান্ডসহ তার প্রাইভেট রোগীদের জন্য স্থাপন করেন। দ্বিতীয় তলায় তিনি বিশ্রাম নেন। তৃতীয় তলাতেও তিনি থাকেন।
এছাড়াও তিনি হাসপাতাল থেকে দায়িত্বের অপব্যাবহার করে হাসপাতালের ফ্যান,লাইট লাগিয়ে নিয়েছেন। এভাবেই তিনি গড়ে তোলেন তার নামহীন বেসরকারি ক্লিনিক। শুধু তাই নয়, নিলাম কায়দায় চলে তার বেপরোয়া উপার্জন। ঔষধের গুনাগুন তার কাছে মুখ্য নয়। যে ঔষধ কোম্পানীর প্রতিনিধি মাসিক যত বেশি টাকা দেবেন, তার ঔষধ তিনি ব্যবস্থাপত্রে লিখবেন।
অভিযোগ রয়েছে, তিনি আউটডোরে আগত রোগীদের স্বাস্থ্য সেবা প্রদান না করে বেলা আড়াই পর্যন্ত তাদের সঙ্গে লুকোচুরি খেলেন। কারণ আউটডোরে ফ্রি সেবা না দিয়ে তিনি চান ওইসব রোগীরা তার কাছে দুপুরের পর অর্থের বিনিময়ে সেবা নিক।
তার বিরুদ্ধে এমনও অভিযোগ রয়েছে তিনি ছাড়া হাসপাতালে ভর্তিকৃত রোগীদের অন্য চিকিৎসকরা রাউন্ডে এসে যে ঔষধ লেখেন তিনি পরে গিয়ে সেসব ঔষধ কেটে দিয়ে তার পছন্দের বেশি টাকা দেয়া ঔষধ কোম্পানীর প্রতিনিধির ঔষধ লেখেন। এ নিয়ে তার সহকর্মী চিকিতসকরা বেশ কয়েকবার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কাছে নালিশ করেও কোন প্রতিকার পায়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।
বিষয়গুলো কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডাঃ নাজমুল ইসলামকে মুঠোফোনে অবহিত করা হয়। তিনি বৃহস্পতিবারই মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সেলিম হোসেন ফরাজীকে উদ্ভুত বিষয়টি তদন্তের জন্য মৌখিক নির্দেশ দেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পান বলে জানা যায়।
এদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর অভিযুক্ত আরএমও ডাঃ আব্দুর রকিবের বেসরকারি ক্লিনিকে থাকা সরকারি হাসপাতালের বেড, ফ্যানসহ আনুসাঙ্গিক সরঞ্জামাদী উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয় বলে জানা গেছে।
ইত্তেফাক/নূহু
