ভারতীয় টেলিভিশন জি বাংলাসহ জি নেটওয়ার্কের চ্যানেলগুলো বাংলাদেশে দেখা যাচ্ছে না। বিদেশি টিভি চ্যানেলে বাংলাদেশি বিজ্ঞাপন প্রচার কেন হচ্ছে—এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে দুটি পরিবেশক প্রতিষ্ঠানকে নোটিস দেওয়ার পর থেকে ওই চ্যানেলগুলোর সম্প্রচার বাংলাদেশে বন্ধ রয়েছে। নোটিসে বলা হয়েছে, ‘কেবল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা আইন, ২০০৬’ এর উপধারা-১৯ (১৩) এর বিধান লঙ্ঘন করে বিদেশি চ্যানেলে বাংলাদেশি বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে।
গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, আমরা নোটিস দিয়েছি বিজ্ঞাপন ছাড়া যেন আমাদের দেশে দেখানো হয়। নোটিসের জবাব পাওয়ার প্রেক্ষিতে আমাদের সিদ্ধান্ত হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিদেশি কোনো চ্যানেলে কোনো ধরনের বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করা যায় না। শুধু দেশীয় বিজ্ঞাপন নয়, কোনো ধরনের বিজ্ঞাপন দেখানো যায় না, এটি হচ্ছে বাংলাদেশের আইন। একই ধরনের আইন ভারত, যুক্তরাজ্য, ইউরোপেও আছে। বাংলাদেশে এ আইনটি মানা হচ্ছিল না এবং এ আইনটি প্রয়োগ করা হয়নি। আমরা কোনো চ্যানেল বন্ধ করিনি।
তিনি বলেন, আমরা কোনো নতুন আইন প্রয়োগ করছি না, দেশের প্রচলিত আইন প্রয়োগ করা শুরু করেছি দেশ ও দেশের গণমাধ্যমের স্বার্থে। তথ্যমন্ত্রী বলেন, ইউনিলিভার পাঁচ বছর আগে বিজ্ঞাপন খাতে মাসে ১৫ কোটি টাকা খরচ করত। তার বিচারে, পাঁচ বছরে এটা ২০ কোটি হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তা না হয়ে ৫ কোটিতে নেমে এসেছে। বাকি বিজ্ঞাপন ভারতীয় চ্যানেলের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রদর্শন করা হচ্ছে, যেটা আইন বহির্ভূত। এ রকম অনেকগুলো কোম্পানির বছরে ৫০০ থেকে এক হাজার কোটি টাকার বিজ্ঞাপন অন্য দেশে চলে গেছে।
প্রসঙ্গত ‘কেবল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা আইন, ২০০৬’ এর উপধারা-১৯ (১৩) এর বিধান লঙ্ঘন করে বাংলাদেশে ডাউনলিংক করা বিদেশি টিভি চ্যানেলের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রচার করায় পরিবেশক প্রতিষ্ঠান নেশনওয়াইড মিডিয়া লিমিটেড এবং জাদু ভিশন লিমিটেডকে সোমবার কারণ দর্শানোর নোটিস দেয় তথ্য মন্ত্রণালয়। সাতদিনের মধ্যে ওই দুটি প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।
