প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা কমিয়ে আনতে ও সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করতে প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়ানোর চিন্তা করছে ভারত। পাকিস্তানের প্রতি মোদী সরকারের এ দৃঢ় পদক্ষেপে ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতায় কোনো প্রভাব পরবে না বলে জানানো হয়েছে।
ভারত সরকারের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘আমাদের পাকিস্তানের সঙ্গে বসবাস করতে হবে। প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়ানো হলে এটি আমাদের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। তারপরও ভারতের সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী কর সংস্কার ব্যবস্থা জএসটি (পণ্য ও সেবা কর) ও নোট বাতিলের সঙ্গে সামঞ্জস্যতা রেখে এই বাজেট বৃদ্ধির পরিকল্পনা করা হয়েছে।’ বর্তমানে দেশটির মোট প্রতিরক্ষা বাজেট ৫৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।
গত ১ মে কাশ্মীরে লাইন অব কন্ট্রোলের কাছে পাকিস্তানিদের দ্বারা দুই ভারতীয় জওয়ানকে শিরশ্ছেদ করে হত্যার পর তাদের লাশ বিকৃত করার অভিযোগ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় ভারতের প্রতিক্রিয়া কী হবে এমন প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা আরো জানান, ‘ ভারতীয় সেনারা সময় ও স্থান বেছে নিয়েই এর পাল্টা জবাব দেবে।’
এর আগে, গত বছর ভারতীয় সামরিক স্থাপনায় পাকিস্তানি সন্ত্রাসীদের বড় ধরণের তিনটি হামলার ঘটনায় ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক অনেকটাই নাজুক আকার ধারণ করে। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ দু’দেশীয় শান্তি আলোচনার জন্য পাকিস্তান সফর করেন। তারপরও ২০১৬ সালের ২ জানুয়ারিতে পাকিস্তান সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসীরা পাঠানকোট বিমানবন্দরে হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে ভারতের। এরপর গত ২৮ সেপ্টেম্বর কাশ্মীরের উড়িসহ নভেম্বরে ভারতীয় অপর এক সেনা কমপ্লেক্সে হামলার পর দেশ দুটির মধ্যে উত্তেজনা চরমে পোঁছে। তারপর থেকে ভারত-পাকিস্তান শান্তি আলোচনার অগ্রগতি অনেকটাই সীমিত হয়ে যায়।
আর এরই প্রেক্ষিতে সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করে ভারত সরকার। পাকিস্তানের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই তাই প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়ানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে তারা।
ইত্তেফাক/সেতু
