গত সোমবার রাত সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ব্যাপক ঝড়-বৃষ্টি হয়। এর মধ্যে কয়েক দফা শিলাবৃষ্টিও হয়। ঝড়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ৩০টি গাছ উপড়ে পড়াসহ অর্ধশতাধিক গাছপালা ভেঙে পড়ে। এছাড়া লাইট পোস্টের পিলার উপড়ে পড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিও হয়।
রাত সাড়ে ১১টার দিকে হঠাত্ বেড়ে যায় বাতাসের বেগ। মেঘের গর্জন ও ঘন ঘন বিদ্যুতের ঝলকানি ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করে। এসময় থমকে যায় পথচারীদের পথচলা। শিলা বৃষ্টিতে নগরবাসীর দুর্ভোগ বাড়ে। অনেকে শিলা বৃষ্টিতে আহত হন। দোকানসহ বিভিন্ন স্থাপনার সামনে দাঁড়িয়ে যাত্রীবাহী বাহনের জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন লোকজন।
বৃষ্টিতে বিভিন্ন সড়ক ও নিচু এলাকায় পানি জমে যায়। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় কোনো কোনো রাস্তায় হাঁটু পানি জমে যায়।
ঝড়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে পুলিশ বক্সের ওপর উপড়ে পড়ে গাছ। গাছ উপড়ে পিকআপের ওপর পড়লে দুজন আহত হন। তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহত দুই ব্যক্তি পিকআপের চালক ও সহকারী ।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সীমানা প্রাচীর সংলগ্ন অনেক গাছের ডাল ভেঙে পড়ে, উপড়েও পড়ে কিছু গাছ। গতকাল মঙ্গলবার ভোরে সেগুলো এনে জড়ো করা হয় ফুটপাত ও সংলগ্ন রাস্তায়। পরে সেখান থেকে সরিয়ে ফেলা হয়।
ঝড়ে রাজধানীর গুলিস্তান পার্ক, ধানমন্ডি, মতিঝিল, হেয়ার রোড, ঢাকা কলেজ, ধানমন্ডি ৭/এ, উত্তরা, কাওরান বাজার সোনারগাঁও হোটেলের পাশে, বারিধারা এলাকায় অন্তত অর্ধশতাধিক গাছ ভেঙে পড়ে। ফলে সড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। রাজধানীর পান্থপথে সড়কে গাছ উপড়ে পড়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
তবে সকালে ভেঙে পড়া গাছ সরিয়ে নেয় দুই সিটি কর্পোরেশন ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা। আবহাওয়া অধিদফতর বলছে, ৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এ সময় রাজধানীতে বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৭৪ কিলোমিটার এবং বিমানবন্দর এলাকায় বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৮৩ কিলোমিটার।
ইত্তেফাক/নূহু
