সৈয়দা শামছি আরা সায়েকা একজন অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী। মঞ্চ নাটকে তার শুরু হয় পদাতিক নাট্য সংসদে। এখনো এই দলে নিয়মিত তিনি। এরমধ্যে দলের জন্য একজন নির্ভরযোগ্য অভিনয়শিল্পী হিসেবে নিজেকে তৈরি করতে পেরেছেন। দলের বেশির ভাগ নিয়মিত প্রযোজনাগুলোর কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেন। ‘গহন যাত্রা’ নামে একটি একক অভিনয়ের নাটকে অভিনয় করেছেন। গুণী এই অভিনেতার সাক্ষাত্কার নিয়েছেন মাহবুব আলম
থিয়েটারে আপনার সম্পৃক্ততা কিভাবে?
সময়টা ১৯৮৬ সাল। আমি বুলবুল ললিত কলা একাডেমিতে নাচ শিখতাম। একদিন আমার বড় বোনের সাথে পদাতিক নাট্য সংসদে এসেছিলাম। সেখানে নাট্য কর্মশালার জন্য নতুন কর্মীদের ইন্টারভিউ চলছিল। তখন নাটকের দলে এসএসসি বা এইচএসসি পাসের আগে কোনো সদস্য নেওয়া হতো না। আমি কোনায় চুপ করে বসে ছিলাম। কামরুজ্জামান রুনু ভাই আমাকে দেখিয়ে বললেন, ‘ওকে ছোট হিসেবে দলে নিয়ে নিই।’ তারপর ফরম ফিলাপ করে কর্মশালা করলাম। এভাবেই আমার থিয়েটারের সাথে সম্পৃক্ত হওয়া। ‘ভুলিনি ৭১’ পথ নাটকে অভিনয় দিয়ে আমার পথচলা শুরু। তবে ময়মনসিংহ গীতিকা অবলম্বনে ‘চন্দ্রাবতী’ নাটকের চন্দ্রাবতী চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে মঞ্চে পদচারণার শুরু।
মঞ্চ নাটকের মানোন্নয়নে বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে মনে করেন?
মঞ্চ নাটকের মানোন্নয়নে বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন এদেশের নাট্যচর্চায় বিশাল ভূমিকা রাখছে। যেমন বিভিন্ন কর্মশালার আয়োজন করছে। সারা দেশের নাট্যকর্মীদের একই প্লাটফর্মে এনে তাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধির চেষ্টা করছে। নাটকের মানোন্নয়নের জন্য বা ভালোভাবে থিয়েটার চর্চার জন্য বিভিন্ন দলকে সরকারিভাবে অনুদানের ব্যবস্থা করে দিচ্ছে। তাছাড়া সারা বছর ঢাকা ও ঢাকার বাইরে নাট্যোত্সবের আয়োজন করছে। সব দল যাতে নাটক করতে পারে তার জন্য বিশেষ ছাড়ে হল সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করছে।
মঞ্চ নাটকের প্রসারের ক্ষেত্রে কোন ধরনের প্রচার বা বিজ্ঞাপন জরুরি?
প্রথমেই আমাদের যেটা করা দরকার, তা হলো বিশেষ ছাড়ে দেশের প্রতিটি পত্রিকায় বিজ্ঞাপনের ব্যবস্থা করা। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির বিলবোর্ড বা মনিটর সচল রাখা। ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সুলভে বিজ্ঞাপনের ব্যবস্থা করা। প্রতিটি চ্যানেলে মঞ্চ নাটকের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়ে নিউজের ব্যবস্থা করা, যেখানে শুধুই মঞ্চ নাটকের খবর প্রচার করা হবে। এখানে বিভিন্ন টিভি চ্যানেলকে এগিয়ে আসতে হবে। তাদের মঞ্চের প্রথিতযশা নাট্যশিল্পীদের নিয়ে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে হবে। এসবের মাধ্যমে মঞ্চ নাটকের প্রসার হবে বলে আমার মনে হয়।
অভিনয়ে দক্ষ হয়ে উঠতে কী ধরনের অনুশীলন করা প্রয়োজন?
আপনি নিশ্চয়ই জানেন যে, একজন অভিনেতার অভিনয়ে দক্ষ হওয়ার জন্য তাকে অভিনয়ের পাশাপাশি নাচ, গান ও আবৃত্তিতেও পারদর্শী হতে হয়। অভিনয় যেহেতু সব কলার মিশ্রণ, তাই তার এসব বিষয়ে পারদর্শিতা না থাকলেও সম্যক জ্ঞান বা চর্চা থাকতে হবে অন্তত। কেননা একজন অভিনেতাকে মঞ্চে নাচতে হতে পারে বা গাইতে হতে পারে বা আবৃত্তি করতে হতে পারে। এছাড়াও অভিনেতাকে তার শরীর ফিট রাখার জন্য নিয়মিত ব্যায়াম করাটা বেশি দরকার বলে মনে হয়।
আমন্ত্রিত বিদেশি নাট্যদলগুলো আমাদের নাট্যশিল্পী বা দর্শকমহলকে কিভাবে প্রভাবিত করে?
বিদেশি নাট্যদলগুলোর আগমন দেশীয় শিল্পীদের জন্য একটা প্রেরণা হিসেবে কাজ করে। কারণ দেশ ও বিদেশের নির্দেশকদের মধ্যে ভাষা, মঞ্চ ও চিন্তার ব্যাপক একটা পার্থক্য থাকে। তাদের চিন্তা, মঞ্চ, লাইট, সেটা, প্রপস এসবের ব্যবহার আমাদের ভাবায় বা প্রভাবিত করে। আমরা যেগুলো ভালো সেগুলো নেওয়ার সুযোগ পাই। আবার দর্শকদের ক্ষেত্রে যেহেতু অনেকের বিদেশে যাওয়ার বা বিদেশ গিয়ে নাটক দেখার সুযোগ হয় না, তাই আমাদের দেশেই বিদেশের নাটক দেখার সেই সুযোগটা পাওয়া যায়। দর্শক আমাদের নাটকের সাথে বিদেশের নাটকের পার্থক্য এবং তাদের ভাষা, সংস্কৃৃতি সম্পর্কেও জানতে পারে।
