গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৪। (১) নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, “সকল প্রকার জবরদস্তি-শ্রম নিষিদ্ধ; এবং এই বিধান কোনভাবে লংঘিত হইলে তাহা আইনতঃ দণ্ডনীয় অপরাধ বলিয়া গণ্য হইবে।” অথচ, সর্বোচ্চ আইনের এই অনুচ্ছেদটির লংঘন একটি মফস্বল শহরে ঘটে চলেছে!
নীলফামারীর জলঢাকায় স্কুল পড়ুয়া শিশুদের জবরদস্তি শ্রমে চলছে অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসৃজন কর্মসূচী (ইজিপিপি'র আওতায় ২য় পর্যায়ের) ৪০ দিনের কাজ। ফলে স্কুলমুখী শিক্ষার্থীরা বই-খাতা ফেলে রাস্তা সংস্কারের জন্য এখন মাথায় মাটির ডালি বইছে।
IMG0
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন দপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান হাফিজ জানান, উপজেলায় মোট কার্ডধারীর সংখ্যা তিন হাজার ২১৫ জন। শিশুদের দিয়ে কাজ করার নিয়ম নাই। কোনো জনপ্রতিনিধি এমন কাজ করলে ইউএনও অবশ্যই ব্যবস্থা নিবেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, কাঁঠালী ইউনিয়নের ০৩ নং ওয়ার্ডে কাঁঠালী এসসি উচ্চ বিদ্যালয়ের অধ্যায়নরত ৮ম শ্রেণীর ক শাখা রোল ২৪ তসরিফা, ৬ষ্ঠ শ্রেণীর খ শাখা রোল নং ৩৭ রেজাউল ইসলাম, মাটির ডালি মাথায় নিয়ে ঐ ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সোহরাব হোসেন তুহিন'র বাড়ির মসজিদের সামনে গর্ত ভরাটের কাজ করছে।
তসরিফার মা কার্ডধারী আসমা বেগম ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ও রেজাউলের মা কার্ডধারী রফিকা বেগম জ্বরে ভূগছে বলে জানান এই দুই শিশু। এমন শিশু শ্রমের দৃশ্য প্রায় গোটা উপজেলায় বিরাজ করছে।
শুধু তাই নয় জনপ্রতিনিধিরা এসব শ্রমিক দিয়ে বোরো ধান কাটাচ্ছে, ভুট্টা ছিঁড়তে কাজে লাগাচ্ছে এমনও অভিযোগ আছে। কাঁঠালী ৩নং ওয়ার্ড সদস্য আব্দুল আজিজ বলেন, এই দুই শিশুর মা অসুস্থের কথা বললে আমি তাদের কাজে লাগাই। কারণ, কাজ তো আর বন্ধ রাখা যাবেনা।
এ বিষয়ে কাঁঠালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, আলহাজ্ব সোহরাব হোসেন তুহিন বলেন, শিশুদেরকে যে কাজে লাগিয়েছে তাকে বলেন। এ নিয়ে আমার সঙ্গে কথা বলার দরকার নাই।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুহ:রাশেদুল হক প্রধান জানান, এ বিষয়ে আগে জানা ছিল না। সরেজমিনে গিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইত্তেফাক/নূহু
