বনানীতে দ্য রেইনট্রি হোটেলে আটকে রেখে দুই ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগের ঘটনায় বনানী থানার ওসির কাজে গাফিলতির প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। বনানী থানার ওসি ফরমান আলীর বিরুদ্ধে গঠিত তদন্ত কমিটি সোমরাব দুপুরে ডিএমপি কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়ার হাতে এ প্রতিবেদন জমা দেন।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (অপারেশন অ্যান্ড ক্রাইম) মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে এই তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন-ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) কৃষ্ণপদ রায় ও যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) আবদুল বাতেন।
সর্বশেষ মে মাসের ৪ থেকে ৬ তারিখ বনানী থানায় দায়িত্বরত দুই কনেস্টবলের সাক্ষ্য নিয়েছে কমিটি। সেসঙ্গে কমিটি বনানী থানার ওসি ফরমান আলীকে কয়েক দফা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। এই কমিটিও ইতোমধ্যে ঘটনার সত্যতা পেয়েছে। তাই জমা দেয়া প্রতিবদনে বেশ কিছু অসঙ্গতির কথা তুলে ধরা হয়েছে। বনানী থানার ওসি বিভিন্ন অভিযোগের মৌখিক ও লিখিত জবাব দিয়েছে তদন্ত কমিটিকে।
তদন্ত কমিটির একটি সূত্র জানায়, ওসি ৪ মে ও ৫ মে অভিযোগকারীদের মামলা গ্রহণ করেননি। ৬ মে বিকাল থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত অভিযোগকারী দুই ছাত্রীকে থানায় বসিয়ে রাখেন। রাত ৯ টার পর গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আব্দুল আহাদ থানায় যান। কেন একজন অভিযোগকারীকে দুই দিন ধরে থানায় হয়রানি করা হচ্ছে- অতিরিক্ত উপ-কমিশনারের এমন প্রশ্নের মুখে ওসি মামলা গ্রহণ করতে বাধ্য হন। ঐ দিন রাত ১০ টায় ওসি থানায় মামলা গ্রহণ করেন বলে তদন্ত কমিটি তদন্তে প্রমাণ পেয়েছে।
তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরা এ ব্যাপারে অনেকের বক্তব্য নিয়েছি। বিষয়টির বিভিন্ন দিক আমরা খতিয়ে দেখছি। তদন্তে এ ঘটনায় কারো গাফিলতির প্রমাণ মিললে, কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার কথা নিশ্চিত করে ইত্তেফাককে বলেছেন, প্রতিবেদন অনুযায়ী যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া যাবে,তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
গত ২৮ মার্চ বনানীর ‘দ্য রেইন ট্রি’ হোটেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী গণধর্ষণের শিকার হন। এ ঘটনায় ৬ মে বনানী থানায় আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ সেলিমের পুত্র সাফাত আহমেদ, ই-মেকার্স বাংলাদেশের মালিক নাঈম আশরাফ ওরফে আব্দুল হালিম, রেগনাম গ্রুপের পরিচালক সাদমান সাকিফ, সাফাতের দেহরক্ষী রহমত আলী ও সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল হোসেনকে আসামী করে একজন ছাত্রী মামলা করেন। ১১ মে প্রধান আসামি সাফাত আহমেদ ও সাদমান সাকিফকে সিলেট থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ১৫ মে রাতে র্যাব এবং ডিবির পৃথক অভিযানে গ্রেফতার হয় গাড়ি চালক বিল্লাল ও দেহরক্ষী রহমত আলী। গত বুধবার রাতে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং থেকে গ্রেফতার হয় ধর্ষণ মামলার দুই নম্বর আসামি নাঈম আশরাফ ওরফে আব্দুল হালিম।
ইত্তেফাক/ রেজা
