গ্রিসে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০১৯ উদযাপিত হয়। বাংলাদেশ দোয়েল সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং দোয়েল একাডেমির উদ্যোগে ৩১ মার্চ রবিবারে নিজস্ব ভবনে এই উদযাপন করা হয়।
দোয়েল একাডেমির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন দেওয়ানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত মো. জসীম উদ্দিন এবং দূতাবাসের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।
বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন গ্রিসের অভিবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক মন্ত্রী ইয়াওনিস মুজালাসসহ গ্রীক রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বাংলাদেশ কমিউনিটির সম্মানিত সভাপতি হাজি আবদুল কুদ্দুস, গ্রিসের বুকে প্রথম বাংলা স্কুল’ এথেন্স বাংলা একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা আরিফুর রহমান আরিফ (সিরাজ), দোয়েল সাংস্কৃতিক সংগঠনের সম্মানিত সভাপতি আবদুর রহিম, দোয়েল সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাবেক সভাপতি আবদুর রাজ্জাক টিটু, সিনিয়র সহ-সভাপতি আবদুল কুদ্দুস শিকদার, সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন প্রধান, দোয়েল একাডেমির পরিচালনা পরিষদের মহাসচিব ইকবাল হোসন, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান কামাল রহমানসহ পরিষদের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এছাড়া আরো ছিলেন দোয়েল একাডেমির প্রিন্সিপাল জাহিদুল হক, স্থানীয় সামাজিক, রাজনৈতিক, আঞ্চলিক এবং ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ।

ছবি: সংগৃহীত
দোয়েল একাডেমির ছাত্র-ছাত্রীরা ছাড়াও গ্রিসে বসবাসরত শত শত বাঙালী পরিবার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিল। দোয়েল সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন প্রধান অতিথিদের ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠান শুরু করেন।
প্রথমেই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. হোসেন কোরান তেলাওয়াত করেন এবং তারপর দোয়েল সাংস্কৃতিক সংগঠনের সভাপতি রহিম অতিথিদের আসন গ্রহণ করার অনুরোধ জানান। এরপর দোয়েল একাডেমির চেয়ারম্যান অনোয়ার হোসেন দেওয়ান আগত অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য দেন।
এরপর প্রতিনিধি সাইমুন সরকার ও ফাহিম বাশার শশির পরিচালনায় এবং দোয়েল একাডেমির ছাত্র-ছাত্রীদের পরিবেশনায় নাচে গানে ভরপুর চমৎকার এক সন্ধ্যা উপভোগ করেন আগত অতিথিরা। বিশেষ করে বাংলার পাশাপাশি গ্রিক ভাষায় আমাদের শিশুদের অনর্গল কথা, গ্রিক কবিতা ও গান শুনে আগত গ্রিক নাগরিকরা মুগ্ধ হন।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ছবি: সংগৃহীত
এথেন্স বাংলা একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা এবং দোয়েল একাডেমির প্রধান উপদেষ্টা আরিফুর রহমান সিরাজ অনুবাদকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে প্রধান অতিথি রাষ্ট্রদূত মো. জসীম উদ্দিন বক্তব্য গ্রিক ভাষায় এবং বিশেষ, ইয়াওনিস মুজালাসের বক্তব্য বাংলা ভাষায় চমৎকারভাবে অনুবাদ করেন। রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্যে দোয়েল সংগঠন এবং দোয়েল একাডেমিকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রবাসে বাংলাদেশের ভাষা ও সংস্কৃতি চর্চার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
তিনি বিশেষ অতিথি মি. মুজালাসকে অভিবাসীদের কল্যাণে কাজ করার জন্য বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান। মুজালাসও রাষ্ট্রদূতকে ধন্যবাদ জানিয়ে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় উপস্থিত থাকতে পেরে নিজের অন্য রকম অনুভূতির কথা প্রকাশ করেন।
দোয়েল একাডেমির শিশুরা বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের পাশাপাশি যখন গ্রিসের জাতীয় সংগীত গাইছিলো তখন তিনি আবেগ তাড়িত হয়ে পড়েন। তিনি বাংলাদেশিদের সাফল্য কামনা করে পাশে থাকার অঙ্গিকার করেন। এরপর গ্রিসের বাংলাদেশ কমিউনিটির সভাপতি হাজি আবদুল কুদ্দুস আগামীর পথ চলায় দোয়েল পরিবারের সঙ্গে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার করেন।

ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের নানান ধরনের, নানান স্বাদের পিঠাসহ পঞ্চ ব্যঞ্জনে দারুণ সুস্বাদু খাবার পরিবেশন করা হয়। অনুষ্ঠানটি সফল করতে দোয়েল সংগঠনের সভাপতি আবদুর রহিম, সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন প্রধান, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট কুদ্দুস শিকদার, কার্যকরী সদস্য কে,এম, আরিফ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জনাব মো: হোসেন, সহ-সভাপতি আনাম মোহাম্মদ, সহ-সভাপতি আজম বাবুর্চি, অর্থ সম্পাদক শরিফ মোহাম্মদ, দপ্তর সম্পাদক জনাব মোতালেব হোসন, প্রচার সম্পাদক শিমুল হোসেন, ক্রীড়া সম্পাদক সানাউলাসহ দোয়েল সংগঠনের নারী সদস্যবৃন্দ এবং অন্যান্য শিল্পী কলাকুশলীবৃন্দ, দোয়েল একাডেমির চেয়ারম্যান অনোয়ার হোসেন দেওয়ান, মহাসচিব ইকবাল হোসেন সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান কামাল রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন নানা এবং দোয়েল একাডেমির প্রিন্সিপাল জনাব জাহিদুল হকের নেতৃত্বে টিচারসহ অন্যান্য সদস্যরা কঠোর পরিশ্রম করেন।
ইত্তেফাক/জেডএইচ

