কুমিল্ল¬ার অধিকাংশ সরকারি হাসপাতালে চিকিত্সক ও সরঞ্জাম সংকট

আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০১৯, ২১:৩৮

আট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অস্ত্রোপচার বন্ধ!

মো. লুত্ফুর রহমান, কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্ল­ার অধিকাংশ সরকারি হাসপাতালে চিকিত্সক, চিকিত্সা সরঞ্জাম ও জনবল সংকটের কারণে স্বাস্থ্যসেবা বিঘ্নিত হচ্ছে। জেলার ১৭টি উপজেলার মধ্যে লালমাই উপজেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নেই। অপর ১৬টি উপজেলার মধ্যে অধিকাংশ উপজেলার সরকারি হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স, এক্স-রে মেশিনসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতির ব্যাপক সংকট রয়েছে। এ ছাড়া বেশ কয়েকটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আল্ট্রাসনোগ্রাম, অ্যানেসথেশিয়া মেশিন, ডেন্টাল ইউনিট ও অটো অ্যানালাইজার মেশিন নেই। জেলার সদর দক্ষিণ, মেঘনা, মনোহরগঞ্জ ও দেবিদ্বারসহ চারটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেই অ্যাম্বুলেন্স। কোনো কোনো হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স, পুরনো মডেলের এক্স-রে মেশিনসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি অচল ও মেরামত অযোগ্য অবস্থায় পড়ে আছে। চিকিত্সক ও যন্ত্রপাতি সংকটে জেলার আটটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অস্ত্রোপচার সম্ভব হচ্ছে না। ফলে গ্রামের প্রসূতি মায়েদের দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। এতে দরিদ্র রোগীরাও ভোগান্তিতে পড়ছেন এবং তৃণমূলে স্বাস্থ্যসেবা বিঘ্নিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। 

জেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, কুমিল্ল­া জেনারেল হাসপাতালে তিনটি এক্স-রে মেশিনের মধ্যে একটি সচল থাকলেও অপর দুটি ২০০৫ সাল থেকে অচল ও মেরামত অযোগ্য অবস্থায় পড়ে আছে। তিনটি আল্ট্রাসনোগ্রাম ও তিনটি অ্যানেসথেশিয়া মেশিনের একটি করে সচল থাকলেও দুইটি করে অচল রয়েছে। অটো অ্যানালাইজার নেই। সদর দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে, অ্যানেসথেশিয়া ও অটো অ্যানালাইজার মেশিন ও অ্যাম্বুলেন্স নেই। চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে মেশিন ও অ্যানেসথেশিয়া মেশিন অচল, দুইটি অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে একটি সচল, অপরটি অচল এবং এগুলো মেরামত অযোগ্য। বুড়িচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দুটি এক্স-রে ও অ্যানেসথেশিয়া মেশিন অচল, চারটি অ্যাম্বুলেন্সের দুইটি অচল ও মেরামত অযোগ্য। দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুইটি এক্স-রে মেশিনের একটি সচল ও আরেকটি অচল এবং আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন অচল ও মেরামত অযোগ্য। ডেন্টাল ইউনিট সচল থাকলেও সার্জন ও টেকনিশিয়ান নেই, অটো অ্যানালাইজার নেই। হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনটি এক্স-রে মেশিনের সবগুলো অচল ও মেরামত অযোগ্য। আল্ট্রাসনোগ্রাম, অটো অ্যানালাইজার ও অ্যানেসথেশিয়া মেশিন নেই, ডেন্টাল ইউনিট অচল এবং তিনটি অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে একটি অচল। মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে, আল্ট্রাসনোগ্রাম ও অ্যানেসথেশিয়া মেশিন অচল মেরামত অযোগ্য। ডেন্টাল ইউনিট, অটো অ্যানালাইজার ও অ্যাম্বুলেন্স নেই। তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে মেশিন সচল থাকলেও টেকনিশিয়ান নেই। আল্ট্রাসনোগ্রাম ও অটো অ্যানালাইজার নেই। দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে মেশিন অচল অবস্থায় পড়ে আছে। আল্ট্রাসনোগ্রাম, অটো অ্যানালাইজার ও অ্যানেসথেশিয়া মেশিন নেই। ডেন্টাল ইউনিট সচল তবে সার্জন ও টেকনিশিয়ান নেই, অ্যাম্বুলেন্স তিনটি অচল ও মেরামত অযোগ্য। ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে মেশিন অচল মেরামত অযোগ্য। আল্ট্রাসনোগ্রাম, অ্যানেসথেশিয়া মেশিন, ডেন্টাল ইউনিট ও অটো অ্যানালাইজার নেই, অ্যাম্বুলেন্স দুটি অচল। নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে মেশিন ও ডেন্টাল ইউনিট অচল। আল্ট্রাসনোগ্রাম ও অটো অ্যানালাইজার নেই। অ্যাম্বুলেন্স সচল থাকলেও চালক নেই। মনোহরগঞ্জে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি। লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যানেসথেশিয়া মেশিন সচল, তবে জনবল নেই। অটো অ্যানালাইজার নেই। চারটি অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে একটি সচল ও তিনটি অচল অবস্থায় পড়ে আছে।

বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে মেশিন অচল ও অ্যানেসথেশিয়া মেশিন নেই। ডেন্টাল ইউনিট সচল তবে জনবল নেই, অটো অ্যানালাইজার মেশিন অচল ও মেরামত অযোগ্য। চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আল্ট্রাসনোগ্রাম ও ডেন্টাল ইউনিট অচল মেরামত অযোগ্য। অ্যানেসথেশিয়া মেশিন সচল তবে দক্ষ জনবল নেই। মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনটি এক্স-রে মেশিনের সবগুলো অচল, দুটি মেরামত অযোগ্য। আল্ট্রাসনোগ্রাম, অ্যানেসথেশিয়া মেশিন ও ডেন্টাল ইউনিট অচল, অটো অ্যানালাইজার নেই, অ্যাম্বুলেন্স একটি সচল ও দুইটি অচল। কুমিল্ল­া টিবি ক্লিনিকের তিনটি এক্স-রে মেশিনের মধ্যে দুইটি সচল, অপরটি অচল রয়েছে।

কুমিল্ল­ার সিভিল সার্জন ডা. মুজিবুর রহমান সংকটের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘জেলার কোনো কোনো উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে মেশিন, অ্যাম্বুলেন্স, আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, অ্যানেসথেশিয়া মেশিন, ডেন্টাল ইউনিট ও অটো অ্যানালাইজারের সংকট রয়েছে। এছাড়া যেসব হাসপাতালে পুরাতন মডেলের এক্স-রে ও অন্যান্য মেশিন সচল কিংবা অচল অবস্থায় পড়ে আছে সেখানে আধুনিক মডেলের মেশিন প্রয়োজন। কোনো কোনো হাসপাতালে চিকিত্সক, বিশেষজ্ঞ সার্জন, টেকনিশিয়ান ও অ্যাম্বুলেন্স চালকসহ জনবলের অভাবও রয়েছে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত এসব সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করছি।’