বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের ফরিদগঞ্জ মাদ্রাসা সংলগ্ন খেয়াঘাটে সুগন্ধ্যা নদীর ওপর দীর্ঘ ৪৫ বছরেও সেতু নির্মাণ করা হয়নি। অথচ এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছে। সেতু না হওয়ায় এই ঘাট দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।
বাবুগঞ্জ-কেদারপুর সড়কে ফরিদগঞ্জ মাদ্রাসা খেয়াঘাট নামক স্থানে সুগন্ধ্যা নদীতে শুধু একটি ব্রিজের অভাবে উপজেলা সদরের সঙ্গে কেদারপুর ইউনিয়নের সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। উপজেলা সদর থেকে কেদারপুর ইউনিয়নের দূরত্ব মাত্র ৪ কিলোমিটার হলেও একটি ব্রিজের অভাবে ওই ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষকে ২৫ কিলোমিটার পথ ঘুরে উপজেলা সদরে যাতায়াত করতে হয়।
এলাকাবাসী জানায়, এখানে সেতু নির্মাণ ২৫ হাজার জনতার প্রাণের দাবি। এই ঘাটের দক্ষিণপাড়ে উপজেলা সদর আর উত্তর পাড়ে কেদারপুর ইউনিয়ন। সুগন্ধ্যা নদীর ওপর ব্রিজ নির্মাণের জন্য ইউনিয়নবাসী দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসলেও স্বাধীনতার দীর্ঘ ৪৫ বছরেও তাদের সে দাবি পূরণ হয়নি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলা সদর থেকে বাবুগঞ্জ বন্দর এবং কেদারপুর স্টিমারঘাট বাজার থেকে ফরিদগঞ্জ মাদ্রাসা খেয়াঘাট পর্যন্ত এলজিইডি সড়ক কার্পেটিং করা হয়েছে অনেক আগেই। ফরিদগঞ্জ খেয়াঘাট দিয়ে প্রায়ই রিজার্ভ ট্রলারে লোকজন পারাপার হচ্ছে। জেলা পরিষদ প্রতি বছর এ ঘাটের ডাক দিয়ে আসছে।
স্কুল শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ জানান, কেদারপুরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ফরিদগঞ্জ মাদ্রাসাঘাটে সেতু নির্মাণ করা। ২০০৪ সালে চারদলীয় জোট সরকার ফরিদগঞ্জ মাদ্রাসাঘাটে একটি সেতু নির্মাণের জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশলীর প্রধান মাহাবুবুর রহমান সরেজমিন এলাকা পরিদর্শন করেন।
বাবুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সরদার খালেদ হোসেন স্বপন বলেন, সেতু নির্মাণের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে একাধিকবার লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। ওই সময় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী ব্রিজ নির্মাণে দেড়’শ কোটি ব্যয়ের কথা জানিয়েছিলেন।
এলাকাবাসী ও নব-নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান নুরে আলম বেপারী জানান, বিএনপি যে সব ব্রিজ নির্মাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে বর্তমান আওয়ামী লীগ সেগুলো করছে। তাই তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সুগন্ধ্যা নদীর উপর ব্রিজ নির্মাণ করার জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।
ইত্তেফাক/নূহু
