কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া উদ্যানের পাহাড়ি টিলা সংলগ্ন টিলাগাঁও গ্রামে ব্যক্তি মালিকানাধীন বড় আকারের টিলা কাটা চলছেই। দীর্ঘদিন ধরে টিলার মাটি বিক্রি করায় বিলীন হচ্ছে উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের ওই টিলাভূমি। ফলে পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ডরমিটরি এলাকা ঘেঁষা টিলাগাঁও গ্রামের আবুল কাশেম (৪৫)-এর ব্যক্তিগত মালিকানাধীন টিলা কেটে মাটি বিক্রি চলছে। আইনে টিলা কাটা ও ভূমির রকম পরিবর্তন নিষিদ্ধ থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে তার নিজস্ব উঁচু টিলা কেটে একদিকে মাটি বিক্রি করছেন, আবার অন্যদিকে সমতল করে ফেলা হচ্ছে। মাটি বিক্রি করে আর্থিক সুবিধা পাওয়ার লোভে টিলা কাটা চলছে বেপরোয়াভাবে।
স্থানীয়দের কেউ কেউ বলছেন, এই টিলা আসলে কাশেম মিয়ার কি-না তা খতিয়ে দেখা দরকার। বনের গাঁ ঘেষা টিলাকে নিজের দাবি করে দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্রের মাধ্যমে মাটি বিক্রি করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, আমরা কিছু বলতে গেলে মাটি বিক্রয়কারী চক্রের রোষানলে পড়তে হবে। এসব টিলার ঝোঁপজঙ্গলে লাউয়াছড়া উদ্যানের বানরসহ বিভিন্ন ধরনের প্রাণী ঘুরে বেড়ায়। এমনকি খাবারের সন্ধানে প্রাণী লোকালয়ে এসেও হানা দেয়। অথচ বনের পাশে টিলা কাটার ফলে জীববৈচিত্রের জন্য হুমকির কারণ হয়ে দেখা দেবে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে টিলার মালিকানা দাবিদার আবুল কাশেম বলেন, আমার নিজের ব্যক্তিগত টিলা কেটে কবরস্থান ভরাটের জন্য মাটি দিয়েছি। ভূমি সমতল করার জন্য কবরস্থানে মাটি দিয়েছি। আইনে নিষিদ্ধ বলে সেটি তার জানা নেই বলে জানান। মাধবপুর ইউনিয়ন পরিষদের স্থানীয় ইউপি সদস্য মোতাহার হোসেন বলেন, আবুল কাশেম গরিব লোক। তিনি একটি মহলের ইন্ধনে দীর্ঘদিন ধরে টিলা কেটে মাটি বিক্রি করছেন। তবে টিলা কাটা আইনে নিষিদ্ধ থাকার বিষয়টি তাকে অবহিত করা হয়েছে।
মাধবপুর ইউপি চেয়ারম্যান পুষ্প কুমার কানু টিলা কাটার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ব্যক্তিগত হলেও টিলা কাটা কিংবা ভূমির রকম পরিবর্তন আইনে নিষিদ্ধ। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করবেন বলে তিনি জানান।
টিলা কাটার বিষয়টি সম্পর্কে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশেকুল হক বলেন, টিলা কাটা আইনত কোনো বৈধতা নেই। টিলা কাটা রোধে উপজলা প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
