চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে সহস্রাধিক ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র

আপডেট : ৩০ মে ২০১৭, ০১:৪৯

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ মোকাবিলায় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে গতকাল সোমবার সকাল থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, ফায়ার সার্ভিস, যুব রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সকল অফিসে খোলা হয়েছে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। গতকাল সোমবার সকাল ১১টা থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে বড় জাহাজসমূহ থেকে ছোট জাহাজগুলো পণ্য লোডিং-আনলোডিং বন্ধ করে দেয়। বন্দরসমূহ জেটি, চ্যানেল ও বহির্নোঙরের জাহাজসমূহের জন্য নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। চট্টগ্রামের পতেঙ্গাস্থ নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী, কোস্টগার্ড কর্তৃপক্ষসমূহ গ্রহণ করে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় ওষুধ পণ্যসহ গঠন করা হয়েছে মেডিক্যাল টিম। চিকিত্সক, নার্স, সহকারী অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাতিল করা হয় সোমবার সকালেই। চট্টগ্রামের উপকূলীয় এলাকাসমূহের ৪৭৯টি এবং কক্সবাজার উপকূলের ৫৩৮টি আশ্রয় কেন্দ্র সকাল থেকে খুলে দেওয়া হয়। জনগণকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে আসার জন্য পুলিশ-স্বেচ্ছাসেবীরা সর্বত্র মাইকিং শুরু করে। রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি উত্তোলন করে বিপদ সংকেত।

চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার উপকূলের দিকে দ্রুত ধাবমান ঘূর্ণিঝড়টি প্রতিমুহূর্তে শক্তিশালী হচ্ছিলো বলে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ১০নং বুলেটিনে সোমবার ১২টায় একবার এবং ১১নং বুলেটিনে বিকাল ৩টায় আরেক দফা জানানো হয়। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের আকাশ দুপুর থেকে মেঘাচ্ছন্ন হতে শুরু করে। চট্টগ্রাম দুপুর থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিপাত শুরু হয়। সারাদিনই চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত বহাল থাকে।

বেলা পৌনে ১২টায় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. জিল্লুর রহমান দুর্যোগ মোকাবিলা সভা ডেকে সর্বোচ্চ সতর্কতা গ্রহণের নির্দেশ দেন সবাইকে। পাহাড়ি এলাকাসমূহ থেকে দ্রুত লোকজন সরাতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ম্যাজিস্ট্রেটদের পাঠান।

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে গতকাল সোমবার সারাদিনই সব ধরনের ফ্লাইট উঠানামা স্বাভাবিক ছিল। বিমান বন্দর ম্যানেজার উইং কমান্ডার রিয়াজুল কবির ইত্তেফাককে বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় জনিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তবে অপারেশন স্থগিত সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত তারা সন্ধ্যায় অথবা রাতে গ্রহণ করবেন।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব ওমর ফারুক গতকাল বেলা ২টায় ইত্তেফাককে বলেন, সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বহির্নোঙরে মাদার ভেসেল থেকে লাইটার জাহাজগুলো পণ্য খালাস ও জাহাজীকরণ (শিপমেন্ট) বন্ধ করে দেয়। বন্দর কর্তৃপক্ষ ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। মেইন জেটিতে অবস্থানকারী ১৬টি জাহাজ, রিভারমুরিংয়ে অবস্থানকারী ১০টি জাহাজকে সকাল ১১টা থেকে নিরাপত্তার জন্য পর্যায়ক্রমে বহির্নোঙরে পাঠানো শুরু হয়। এছাড়া বহির্নোঙরে ওয়ার্কি ভেসেল ৬৯টি ও অন্যান্য জাহাজ ৩২টিসহ মোট ১০১টি জাহাজকে নিরাপদ অবস্থানে থাকার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মো. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী ইত্তেফাককে বলেন, চট্টগ্রামের উপকূলীয় অঞ্চলে ২৮৪টি মেডিক্যাল টিম, ডাক্তার, নার্স, ফার্মাসিস্টসহ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তারা সোমবার সকাল থেকে প্রস্তুত রয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সবার ছুটি বাতিল করা রয়েছে। প্রতিটি উপকূলীয় ইউনিয়নে, ৫ সদস্যের একটি করে মেডিক্যাল টিম রয়েছে। উপজেলাগুলোতে জেলা সদরে কাজ করছে নিয়ন্ত্রণকক্ষসমূহ। জেলা প্রশাসক, ইউএনওসহ প্রশাসনের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে।

দুর্যোগ প্রস্তুতি কর্মসূচি চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক রুহুল আমিন বলেন, চট্টগ্রাম জেলার ঝুঁকিপূর্ণ ছয়টি উপজেলা যথাক্রমে বাঁশখালী, আনোয়ারা, পটিয়া, সীতাকুন্ড, মিরসরাই ও সন্দ্বীপের ৫৮টি ইউনিয়নে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে সহস্রাধিক ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র
সৈয়দ আবদুল ওয়াজেদ, চট্টগ্রাম অফিস৩০ মে, ২০১৭ ইং
চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে সহস্রাধিক ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ মোকাবিলায় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে গতকাল সোমবার সকাল থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, ফায়ার সার্ভিস, যুব রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সকল অফিসে খোলা হয়েছে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। গতকাল সোমবার সকাল ১১টা থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে বড় জাহাজসমূহ থেকে ছোট জাহাজগুলো পণ্য লোডিং-আনলোডিং বন্ধ করে দেয়। বন্দরসমূহ জেটি, চ্যানেল ও বহির্নোঙরের জাহাজসমূহের জন্য নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। চট্টগ্রামের পতেঙ্গাস্থ নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী, কোস্টগার্ড কর্তৃপক্ষসমূহ গ্রহণ করে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় ওষুধ পণ্যসহ গঠন করা হয়েছে মেডিক্যাল টিম। চিকিত্সক, নার্স, সহকারী অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাতিল করা হয় সোমবার সকালেই। চট্টগ্রামের উপকূলীয় এলাকাসমূহের ৪৭৯টি এবং কক্সবাজার উপকূলের ৫৩৮টি আশ্রয় কেন্দ্র সকাল থেকে খুলে দেওয়া হয়। জনগণকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে আসার জন্য পুলিশ-স্বেচ্ছাসেবীরা সর্বত্র মাইকিং শুরু করে। রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি উত্তোলন করে বিপদ সংকেত।

চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার উপকূলের দিকে দ্রুত ধাবমান ঘূর্ণিঝড়টি প্রতিমুহূর্তে শক্তিশালী হচ্ছিলো বলে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ১০নং বুলেটিনে সোমবার ১২টায় একবার এবং ১১নং বুলেটিনে বিকাল ৩টায় আরেক দফা জানানো হয়। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের আকাশ দুপুর থেকে মেঘাচ্ছন্ন হতে শুরু করে। চট্টগ্রাম দুপুর থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিপাত শুরু হয়। সারাদিনই চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত বহাল থাকে।

বেলা পৌনে ১২টায় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. জিল্লুর রহমান দুর্যোগ মোকাবিলা সভা ডেকে সর্বোচ্চ সতর্কতা গ্রহণের নির্দেশ দেন সবাইকে। পাহাড়ি এলাকাসমূহ থেকে দ্রুত লোকজন সরাতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ম্যাজিস্ট্রেটদের পাঠান।

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে গতকাল সোমবার সারাদিনই সব ধরনের ফ্লাইট উঠানামা স্বাভাবিক ছিল। বিমান বন্দর ম্যানেজার উইং কমান্ডার রিয়াজুল কবির ইত্তেফাককে বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় জনিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তবে অপারেশন স্থগিত সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত তারা সন্ধ্যায় অথবা রাতে গ্রহণ করবেন।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব ওমর ফারুক গতকাল বেলা ২টায় ইত্তেফাককে বলেন, সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বহির্নোঙরে মাদার ভেসেল থেকে লাইটার জাহাজগুলো পণ্য খালাস ও জাহাজীকরণ (শিপমেন্ট) বন্ধ করে দেয়। বন্দর কর্তৃপক্ষ ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। মেইন জেটিতে অবস্থানকারী ১৬টি জাহাজ, রিভারমুরিংয়ে অবস্থানকারী ১০টি জাহাজকে সকাল ১১টা থেকে নিরাপত্তার জন্য পর্যায়ক্রমে বহির্নোঙরে পাঠানো শুরু হয়। এছাড়া বহির্নোঙরে ওয়ার্কি ভেসেল ৬৯টি ও অন্যান্য জাহাজ ৩২টিসহ মোট ১০১টি জাহাজকে নিরাপদ অবস্থানে থাকার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মো. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী ইত্তেফাককে বলেন, চট্টগ্রামের উপকূলীয় অঞ্চলে ২৮৪টি মেডিক্যাল টিম, ডাক্তার, নার্স, ফার্মাসিস্টসহ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তারা সোমবার সকাল থেকে প্রস্তুত রয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সবার ছুটি বাতিল করা রয়েছে। প্রতিটি উপকূলীয় ইউনিয়নে, ৫ সদস্যের একটি করে মেডিক্যাল টিম রয়েছে। উপজেলাগুলোতে জেলা সদরে কাজ করছে নিয়ন্ত্রণকক্ষসমূহ। জেলা প্রশাসক, ইউএনওসহ প্রশাসনের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে।

দুর্যোগ প্রস্তুতি কর্মসূচি চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক রুহুল আমিন বলেন, চট্টগ্রাম জেলার ঝুঁকিপূর্ণ ছয়টি উপজেলা যথাক্রমে বাঁশখালী, আনোয়ারা, পটিয়া, সীতাকুন্ড, মিরসরাই ও সন্দ্বীপের ৫৮টি ইউনিয়নে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

ইত্তেফাক/নূহু