ধেয়ে আসছে ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত নামিয়ে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত জারি করেছে আবহাওয়া অধিদফতর। এছাড়াও মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৫ নম্বর সতর্ক সংকেতের বদলে ৮ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। বর্তমানে কক্সবাজার থেকে ঘূর্ণিঝড়টি ৩০৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে।
আবহাওয়া অফিস আরও জানিয়েছে, উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর এবং এগুলোর অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।
IMG0
আজ সকালে পৌনে ৬টার দিকে টেকনাফ উপকূল দিয়ে অতিক্রম করতে শুরু করে ঘূর্ণিঝড়টি। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকা দিয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ সামান্য উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে এ আঘাত হানে। উপকূলে আঘাত হানার সময় মোরা’র গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৩৫ কিলোমিটার।
IMG1
ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ মোকাবিলায় চট্টগ্রাম বিভাগে ১ হাজার ১১৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে ৪৭৯টি, কক্সবাজারে ৫৩৮টি, লক্ষ্মীপুরের ১০২টি, বাগেরহাটে ২২৭টি, বরগুনায় ৩৩৫টি, নোয়াখালীতে ৪১২টি ও ফেনীতে ৪৪টি আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে।
IMG2
এদিকে, বরিশাল বিভাগের আশ্রয়কেন্দ্রগুলোও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় কবলিত এলাকা থেকে জনসাধারণকে এসব আশ্রয়কেন্দ্র আনার কাজে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন কাজ করছে। ইতোমধ্যে এসব আশ্রয়কেন্দ্রে দু’লাখ ৩৫ হাজার লোক আশ্রয় নিয়েছেন। এর মধ্যে কক্সবাজারে এক লাখ ৬০ হাজার ও চট্টগ্রামে ৭৫ হাজার।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, প্রবল ঝড়ে রূপ নেয়ায় ঘূর্ণিঝড় মোরার কেন্দ্রে বাতাসের গতি ঘণ্টায় ৮৯ থেকে ১শ ১৭ কিলোমিটার পর্যন্ত বেগে বয়ে যেতে পারে।
IMG3
‘মেঘনা-মোহনা হয়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার উপকূল দিয়ে হাতিয়া-সন্দ্বীপ-কুতুবদিয়া হয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করবে। এর প্রভাবে সারাদেশে ঝড় ও বজ্রসহ বৃষ্টি হবে।’
IMG4
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করে কর্মস্থলে যোগদানের জন্য প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
ইত্তেফাক/সেতু
