ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুরসহ অন্যদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিচার দাবিতে আল্টিমেটাম দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। গতকাল বুধবার ঢাবির টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এক সমাবেশে হামলার ঘটনায় জড়িত ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আল্টিমেটাম দেয়া হয়। এর আগে আন্দোলনকারীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গা প্রদক্ষিণ করেন।
এদিকে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি স্থগিত করে সমাবেশে উপস্থিত হন ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর। সমাবেশে তিনি আল্টিমেটাম দিয়ে বলেন, আগামী সোমবারের মধ্যে হামলার ঘটনায় জড়িত ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। যদি প্রশাসন ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয় তাহলে আমরা কঠোর কর্মসূচি দেবো।
অপরদিকে গতকাল বুধবার সকালে হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন উপাচার্য ড. মো. আখতারুজ্জামান। সে সময় আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে উপাচার্য বলেন, ‘গত মঙ্গলবাররের ঘটনায় হলের প্রভোস্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। যারা দোষী তাদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমি তাদের বলেছি, কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটিয়ে কেউ যাতে অস্থিতিশীল পরিবেশ ঘটাতে না পারে। অন্যায় করে কেউ যাতে পার না পায় সে বিষয়টাও আমরা নিশ্চিত করব।’
সমাবেশে ভিপি নুর বলেন, হলে যাদের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছি তাদের বিচার করতে হবে এবং হল থেকে সব বহিরাগত, অছাত্র এবং অবৈধদের বের করে দিতে হবে। উপাচার্য আমাদের এসব বিষয়ে সুষ্ঠু সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। আমরাও তার কথার ওপর আস্থা রেখেছি।
রাজু ভাস্কর্যের সামনের সমাবেশে ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন, শামসুন্নাহার হল ছাত্র সংসদের ভিপি শেখ তাসনীম আফরোজ ইমি, ডাকসুর জিএস প্রার্থী ও ছাত্র ফেডারেশনের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি উম্মে হাবিবা বেনজির, ডাকসুর ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী স্বতন্ত্র জোটের অরণি সেমন্তি খান, বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন ও ফারুক হোসেনসহ অর্ধশতাধিক আন্দোলনকারী উপস্থিত ছিলেন।
