ভারতের পদ্মশ্রী, পদ্মভূষণ সম্মাননাপ্রাপ্ত নির্মাতা শ্যাম বেনেগাল। ইতিহাসনির্ভর চলচ্চিত্র নির্মাণে তার সুখ্যাতি বিশ্বজোড়া। গত বছরেই তার নাম বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সংযুক্ত হয়েছে। কারণ তিনি কাজ করছেন এখন জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর বায়োপিক নির্ভর চলচ্চিত্র নিয়ে। একাধিকবার ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এই নির্মাতা নিজেও তার একাধিক ইন্টারভিউতে বলেছেন এই চলচ্চিত্রটিই তার জীবনের অন্যতম একটি কাজ। বঙ্গবন্ধুর জীবনী নিয়ে ছবিটি বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত হবে। ২০২০ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষে এটি মুক্তি দেওয়া হবে।
আর এ উপলক্ষে একেবারেই অনানুষ্ঠানিকভাবে গত ২ এপ্রিল সকালে প্রথমবারের মতো এফডিসিতে এলেন বরেণ্য এই চলচ্চিত্র নির্মাতা। সেখানে এ সংক্রান্ত একটি বৈঠকে অংশ নেন। এতে উপস্থিত ছিলেন বিএফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক লক্ষণ চন্দ্র দেবনাথ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম, চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার প্রমুখ। টানা আড়াই ঘণ্টা চলে আলাপচারিতা।
এছাড়া গতকাল বুধবার গাজীপুরের শফিপুরে বঙ্গবন্ধু ফিল্ম সিটিতেও যান তিনি। দেখতে, সেখানে ছবিটির শুটিং করা যায় কিনা। কবে থেকে আনুষ্ঠানিক শুটিং শুরু হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা একটা বিশাল ক্যানভাসের কাজ। সম্মিলিতভাবেই এটা করতে হবে। আমরা প্রি প্রডাকশনটা গুছিয়ে তবেই একটানা শুটিং এ যেতে পারবো। এখানকার একঝাঁক মেধাবী কাজ করবেন। অধিকাংশ শুটিংয়ের কাজ এখানেই হবে। তাই লোকেশনসহ কারিগরি সুবিধাগুলো দেখতে এসেছি।
এদিকে দীর্ঘদিন ধরেই যে আলোচনা চলচ্চিত্রপাড়ায় সবচেয়ে বেশি মুখর— তা হলো বঙ্গবন্ধু’র চরিত্রে কে কাজ করবেন? এই প্রশ্নে তিনি শুধু জানালেন বিভিন্ন বয়সের বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে চিত্রনাট্য এবং ইতিহাসকে পোট্রে করা হবে এই চলচ্চিত্রে। তাই বঙ্গবন্ধুর অবয়ব, বডি ল্যাঙ্গুয়েজ, বাচনভঙ্গিসহ সব বিবেচনা করেই আমরা সবচরিত্র চূড়ান্ত করছি। এছাড়া তত্কালীন লোকেশন ধারণসহ সব চূড়ান্ত করে পুরো টিম শুটিং শুরু করবে। তাই সব চরিত্র একবারে চূড়ান্ত হলেই আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেব।
এদিকে খুবই গোপনীয়তা বজায় রেখেই সমস্ত আলোচনা চলছে, কারণ বিচ্ছিন্ন তথ্য গণমাধ্যমে এলে বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে। তবে চিত্রনায়ক ফারুক, আলমগীরসহ চলচ্চিত্রের একাধিক কলাকুশলীরা এর আগে বিভিন্ন ইন্টারভিউতে বলেছেন যে, পরিণত বয়সের বঙ্গবন্ধু চরিত্রে বাংলাদেশের শক্তিমান কোনো অভিনেতাকেই দেখতে চান তারা। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের এই দাবির প্রেক্ষিতে দেশের সবচেয়ে আকাঙ্খিত এই ছবিতে বঙ্গবন্ধুর পরিণত বয়সের চরিত্রে বাংলাদেশ না ভারতের অভিনেতা রাখা হবে এমন প্রশ্ন করতেই তিনি মাথা নাড়লেন। বললেন, এটা এভাবে বিচ্ছিন্নভাবে আমি বলতে পারি না। এটা আমার জীবনের অন্যতম একটি চ্যালেঞ্জিং কাজ। আমি গত কয়েকমাস ধরেই শুধু এটার ওপরেই গবেষণা করছি। আমাকে বাংলাদেশ ও ভারতের বিশাল টিম সহযোগিতা করছে। পুরো বিষয়টির ফলোআপ আমি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছেই জানাব। কারণ একদিকে তিনি এদেশের প্রধানমন্ত্রী অন্যদিকে তিনি বঙ্গবন্ধু কন্যা। তাই পরিবারই সবার আগে জানবে। সেখান থেকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষিত হবে। তাই কোন দেশের অভিনেতা বঙ্গবন্ধু চরিত্রে কাজ করবেন তা আনুষ্ঠানিকভাবেই শুনবেন আপনারা। দেশের কোন কোন জায়গায় শুটিং হবে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমরা কাজ শুরু করে দিয়েছি। শুটিং এর আগে প্রি প্রডাকশনটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। সেটিই এখন করছি। আমি আবারো বলছি চলচ্চিত্র কখনোই কারো একার কাজ নয়। এটা সবার একটি মিলিত চেষ্টা। সেই কারণেই এরকম সম্মিলিত আলাপ আলোচনা চলতেই থাকবে। কারণ এই চলচ্চিত্রের জন্য গোটা বিশ্বের বাঙালি থেকে শুরু করে বিশ্ব নেতারাও অপেক্ষায় আছেন ।
উল্লেখ্য, ছবিটি তৈরির জন্য এরইমধ্যে বাংলাদেশ ও ভারত থেকে ১৯ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আজহারুল হক বাংলাদেশ অংশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
