আজ ৮ রমজান। রমজান মাসে সিয়াম পালন করা ফরজ। সিয়াম সায়িম বা রোজাদারকে পরিচ্ছন্ন চেতনায় সমৃদ্ধ করে। হাদীস শরীফে আছে রমজান মাসে জান্নাতের সব দরজা খুলে দেয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয় আর শয়তানকে শেকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়।
সিয়াম পালনের জন্য নিয়ত করার সঙ্গে সঙ্গে সায়িমের নিকট শয়তান বন্দীদশা লাভ করে। শয়তান মানুষের প্রকাশ্য দুশমন। সে মানুষকে বিপথে চলতে প্ররোচিত করে কিন্তু সিয়াম পালনরত মানুষের কাছে ঘেঁষতেও পারে না।
ইলমে তাসাওউফে নফেসর অবস্থা অনুসারে চার শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়েছে। আর তা হচ্ছে নফসে আম্মারা, নফেস লাওওয়ামা, নফেস মুত্মাইন্না এবং নফেস মুলহিমা।
নফেস আম্মারা হচ্ছে সেই নফ্স যা খুবই অপবিত্র ও মূর্খ এই নফ্স ভালো-মন্দ বিচার শক্তি হারিয়ে ফেলে এবং সর্বক্ষণ পাপের মধ্যে নিমজ্জিত থাকে। সে যে পাপ করছে সে জন্য তার মধ্যে আত্মগ্লানিও সঞ্চারিত হয় না। নফেস লাওওয়ামা কিছুটা পবিত্র ও ভালো-মন্দ বিচার শক্তিসম্পন্ন হয়। পাপ কর্ম করার পর তার মধ্যে আত্মগ্লানির উদ্রেক হয় তখন তা তওবা ইসিতগ্ফার করে কিন্তু এর উপর অটল থাকতে পারে না, আবার পাপ করে আবার তওবা করে। নফসে মুত্মাইন্না হচ্ছে সেই নফ্স যা অতি পবিত্রতা লাভ করে। সে যিক্র-ফিকর, ইবাদত-বন্দেগী, মুরাকাবা-মুশাহাদার মাধ্যমে আল্লাহ তা’আলার নৈকট্য লাভ করে। আল্লাহ তা’আলার অনুগ্রহ জ্যোতি তার উপর এমনভাবে পড়ে যে, সে প্রশান্ত হয়ে যায়। এই নফ্স এমন পবিত্র হয় যে, ছোট-বড় কোনো পাপ তার দ্বারা সংঘটিত হয় না, নফেস মুত্মাইন্নায় উন্নীত হবার পর আল্লাহর মাগরিফাতের সকল দরজা তার সামনে খুলে যায় সে ইল্হাম প্রাপ্ত হয় একেই নফেস মুলহিম বলা হয়।
কুরআন মজীদ নফেসর বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে। ইরশাদ হয়েছে: মানুষের মন অবশ্যই মন্দ কর্ম প্রবণ, কিন্তু সে নয় যার প্রতি আমার রব্ দয়া করেন। আমার রব্ তো অতি ক্ষমাশীল পরম দয়ালু। (সূরা ইউসুফ: আয়াত ৫৩) জান্নাত হবে কাদের আবাস সে সম্পর্কে ইরশাদ হয়েছে: যে নিজের রব-এর সম্মুখে উপস্থিত হওয়ার ভয় রাখে এবং প্রবৃত্তি হতে নিজেকে বিরত রাখে। (সূরা নাযিয়াত : আয়াত ৪০)।
ইত্তেফাক/নূহু
