চুলপড়া সমস্যার কি চিকিৎসা সম্ভব

আপডেট : ০৫ জুন ২০১৭, ১১:৫৮
 
মাঝে মাঝে আমরা ডাক্তাররা রোগীদের অনেক ক্ষেত্রে মানসিকভাবে অসুস্থ করে তুলি। আমি এ সমস্যাটির নাম দিয়েছি ‘ডক্টরস ইনডিউসড সাইকোলজিক্যাল প্রবলেম’। আর এ ধরনের রোগীদের মাঝে মধ্যে পেয়ে থাকি। গতকালের কথা। মা নিয়ে এসেছেন তার ছেলেকে। চুলপড়া সমস্যা। ঢাকা শহরে নামি-দামি চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ একজনও বাদ যায়নি। সর্বশেষ গিয়েছিলেন একটা লেজার সেন্টারে। সেখানে চিকিৎসা চলছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা লেজার ইত্যাদি বাবদ ইতোমধ্যে ১৫/২০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। আমি তরুণটির সঙ্গে কথা বলতে বলতে একটা প্রেসক্রিপশন লিখে ফেললাম। সঙ্গে সঙ্গে অন্যদের যেভাবে বলি সেভাবেই বললাম চুলপড়ার কোনো ম্যাজিক চিকিৎসা নেই। ডাক্তারের সব ধরনের চেষ্টা এবং দামি দামি ওষুধ, লেজার ব্যবহারের পরও বেশিরভাগ রোগীর আশানুরূপ ফল মেলে না। তরুণটি বললো, আপনি যেসব ওষুধ দিয়েছেন তা আমি বিগত তিন বছর ধরে ব্যবহার করছি এবং এই তিন বছরে ডজন খানেক চিকিৎসক বদল করেছি। কোনো লাভ তো হয়নি বরং চুলপড়া আরো বেড়ে যাচ্ছে। কিন্তু আপনিতো সেই পুরাতন ওষুধই দিলেন। আমি এতসব শুনতে চাই না। তিন মাসের মধ্যে চুল গজানো দেখতে চাই। আমার কথায় সন্তুষ্ট হতে না পেরে তরুণটি বেশ খানিকটা রাগান্বিত হয়ে চেম্বার থেকে বের হয়ে গেল। এ ধরনের সমস্যাকেই আমি ডক্টরস ইনডিউসড সাইকোলজিক্যাল সমস্যা বলে থাকি। অর্থাৎ এই তরুণটিকে আমরা যদি শুরু থেকে বুঝাতে পারতাম চুলপড়া কোনো রোগ নয় বরং চুলপড়া সমস্যার কোনো ধরনের নিশ্চয়তা দিয়ে চিকিৎসা করা সম্ভব নয়। তাহলে তরুণটি এত ক্ষিপ্ত হতো না। এটা আমার বিশ্বাস। আমি বলার চেষ্টা করি অনেক ক্ষেত্রে চুল গজায়। রোগী খুশি হয়। আবার শতকরা ৩০/৪০ ভাগ ক্ষেত্রে সব ধরনের চিকিৎসা সত্ত্বেও রোগীর সমস্যার সমাধান হয় না। আমরা রোগীকে যথেষ্ট সময় দিয়ে কাউন্সিলিং করতে পারলে চিকিৎসা করতে না পারলেও অন্তত রোগীকে খানিকটা স্বস্তি দিতে পারি।
 
যাই হোক, গতকালের তরুণটি চুলের চিকিৎসা করতে করতে এতটাই হতাশ যে তাকে অনেকক্ষণ ধরে আন্তরিকভাবে যথেষ্ট ভালো করে বুঝাবার চেষ্টা করেও কোনো লাভ হলো না। সে আমাদের মতো ডাক্তারদের সম্পর্কে এতটাই নেতিবাচক যে, আমার কোনো উপদেশ ও সরল বাক্য সে বিশ্বাস করল না। চেম্বার থেকে বের হবার সময় বললো কোনো ডাক্তারকেই আর বিশ্বাস করি না। মা তুমি ডাক্তারের ভিজিট দিয়ে চলে আসো।
 
আমি মনে করি, আমরা যদি প্রতিটি রোগীর ক্ষেত্রে মমত্ববোধ দিয়ে বুঝাতে পারতাম তাহলে চিকিৎসায় হতাশাগ্রস্ত তরুণরা সাহস পেত। ডাক্তারদের প্রতি আস্থাশীল হতো। কিন্তু আমাদের অনেকের কারণে তরুণরা ডাক্তারদের ওপর থেকে অনেক ক্ষেত্রে আস্থা হারিয়ে ফেলছে। আমাদের এটা উপলব্ধি করা উচিত। তাহলেই একদিন রোগীদের আস্থা ফিরতে শুরু করবে। অবশ্য অনেক ভালো চিকিৎসক আছেন। যাদের প্রতি রোগীদের নিশ্চয়ই আস্থা আছে।
 
লেখক: চুলপড়া, এলার্জি, চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ