অর্থনীতি ও শিক্ষার উন্নয়নের মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষা সম্ভব : আনোয়ার হোসেন মঞ্জু

আপডেট : ০৬ জুন ২০১৭, ০২:৪৩

পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং শিক্ষার হার বাড়িয়েই পরিবেশ সুরক্ষা সম্ভব। মানুষের সচেতনতা পরিবেশ সুরক্ষায় বড় ভূমিকা রাখতে পারে। গতকাল সোমবার বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন বাংলাদেশ আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

রাজধানীর কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত এ সেমিনারে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, জন্মলগ্ন থেকেই ধরিত্রীর পরিবর্তন হচ্ছে। সামনেও এ পরিবর্তন অব্যাহত থাকবে। মানুষসহ সকল প্রাণীকূল এ পরিবর্তনের সাথে যুদ্ধ করে টিকে আছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ধারণাটি আশির দশক থেকে জোরালোভাবে আলোচনা হচ্ছে। এ নিয়ে এখন হৈ হৈ হচ্ছে। অনেক দেশ পরিবেশের বড় ক্ষতি করছে, যার শিকার বাংলাদেশ। বিভিন্ন সেমিনারে বলা হচ্ছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়লে বাংলাদেশের অধিকাংশ এলাকা ডুবে যাবে। কিন্তু বাংলাদেশ ডুবে যাবার পাশাপাশি অন্যান্য দেশও এ থেকে রক্ষা পাবে না।

আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলা করা কোনো একক দেশের পক্ষে সম্ভব নয়। সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজটি করতে হবে। তিনি বলেন, কোনো ব্লেম গেমে বিশ্বাস করি না। অন্যরা ক্ষতি করছে বলে আমরা তাদের কাছে ক্ষতিপূরণ চাইব তা হতে পারে না। মনে রাখতে হবে আমরাও কিছু কিছু দূষণ করছি। বিভিন্ন সভা-সেমিনারে বলা হচ্ছে পরিবেশ দূষণ বাড়ছে, তাপমাত্রা বাড়ছে। কিন্তু এ নিয়ে আমাদের তেমন রিসার্চ নেই। ইটভাটা নিষিদ্ধের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাস্তবতার বিষয়টি ভিন্ন। আমরা এখনো ইটের বিকল্প তেমনকিছু জোরালোভাবে নিয়ে আসতে পারিনি। উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়টিও আমাদের খেয়াল রাখতে হয়। তিনি সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের মানুষের মধ্যে পরিবেশ রক্ষার বিষয়ে এখন সচেতনতা এসেছে। এতে কিছু কাজ হচ্ছে। নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে। তবে অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং শিক্ষা ছাড়া এ কাজটি বেশি দূর এগুবে না।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি আওয়ামী লীগের পরিবেশ ও বনবিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বলেন, প্রকৃতিকে জয় করতে গিয়ে আমরা প্রকৃতির প্রতিপক্ষ হয়েছি। এজন্য প্রকৃতি আমাদের ওপর প্রতিশোধ নিচ্ছে। শিল্পায়নের ফলে আমরা ক্রমাগত পরিবেশ থেকে দূরে সরে যাচ্ছি। সবাইকে পরিবেশের কাছাকাছি যেতে হবে। এছাড়া তিনি পরিবেশ রক্ষার কার্যক্রমে দলের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ত হওয়ারও আহ্বান জানান।

কৃষিবিদ এমএ সালেহ্’র সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল নিবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রফেসর ড. মো. শহীদুর রশীদ ভূঁইয়া। আলোচনায় অংশ নেন কৃষিবিদ প্রফেসর নীতিশ দেবনাথ, কৃষিবিদ মোবারক আলী, ড. দ্বিজেন লাল মল্লিক, কৃষিবিদ জিয়াউল হক,  ড. গিয়াস উদ্দিন মিয়া, কৃষিবিদ খায়রুল আলম প্রিন্স প্রমুখ। সেমিনার শেষে প্রধান অতিথি আনোয়ার হোসেন মঞ্জু স্কুলছাত্রদের হাতে গাছের চারা তুলে দেন। এর আগে তিনি বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন।

নূহু/ইত্তেফাক