টঙ্গীর পূর্ব থানা এলাকায় সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণাসহ নিরীহ লোকজনকে অপহরণ, মারধর ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে ৬ জন কথিত সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ মো. রোকনুজ্জামান সেলিম (৫০), মো. আ: সাত্তার (২২) ও মো.সজিব মোল্লা (১৯) নামে ৩ জনকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করেছে।
মামলার অভিযোগে জানা যায়, ২/৩ দিন আগে একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সৌদি আরবে চাকরি সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন দেখে এবং বিজ্ঞাপনে ব্যবহূত মোবাইল নম্বরে গত ২ এপ্রিল ২০১৯ সকাল ১০ টায় আশুলিয়া থানাধীন দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদের খাদেম মো. শরীফ আহম্মেদ যোগাযোগ করেন। ওই সময় বন্যা নামে এক মেয়ে মোবাইল রিসিভ করে এবং শরীফকে টঙ্গী স্টেশন রোড এলাকায় আসতে বলে। প্রতারক চক্রের সদস্য বন্যার কথা মত শরীফ ওই দিন বেলা আড়াইটার দিকে টঙ্গী স্টেশন রোড আসলে বন্যা আক্তার জানায়, আমি আমার ভাগ্নে সাত্তারকে পাঠালাম, আপনি তার সাথে অফিসে চলে আসেন। পরে সাত্তার গিয়ে শরীফ আহম্মেদকে গাজীবাড়িস্থ সাঙ্গু গার্মেন্টসের পেছনে জনৈক আলেয়ার বাড়ির নিচ তলায় একটি কক্ষে নিয়ে যায়। সেখানে শরীফকে আটক করা হয় এবং উপস্থিত কথিত সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী রোকনুজ্জামান সেলিম, মো.সজিব মোল্লা, মো. সাত্তার, মো. ফারুক, মো. মহিউদ্দিন চিশতি ও সুমন আহম্মেদ মিলে শরীফের নিকট ৫০ হাজার টাকা দাবি করে এবং টাকা দিতে অস্বীকার করায় ওই ব্যক্তিরা শরীফের ব্যবহূত মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে তার স্ত্রী তানিয়া বেগমকে ফোন করে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এবং তাদের ব্যবহূত দুটি বিকাশ নম্বর প্রেরণ করে। এসময় প্রতারকরা তানিয়া বেগমকে বলে, টাকা না দিলে শরীফকে মেরে ফেলা হবে। তানিয়া তখন স্বামীর মুক্তিপণ হিসেবে অপহরণকারীদের বিকাশ নম্বরে ১০ হাজার ৫শ টাকা প্রদান করেন। দাবিকৃত টাকা দিতে না পারায় অপহরণকারীরা শরীফকে মারধর শুরু করলে তিনি চিত্কার করতে থাকেন। বিষয়টি স্থানীয়রা টের পেয়ে টঙ্গী থানায় খবর দিলে থানার এসআই শুভ মন্ডলের নেতৃত্বে একদল পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অপহূত শরীফ আহম্মেদকে উদ্ধার ও অপহরণকারী চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করে। এসময় অপর তিন কথিত মানবাধিকার কর্মী ও সাংবাদিক ফারুক, মহিউদ্দিন চিশতি ও সুমন আহম্মেদ পালিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে টঙ্গী থানার অফিসার ইনচার্জ (অপারেশন) সুব্রত কুমার পোদ্দারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
