সন্জীদা খাতুন

সাতাশিতেও তারুণ্যের স্পর্শ

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০১৯, ০০:৫৩

৮৬ বছর পেরিয়ে ৮৭তে পা রাখলেন। শরীরে বয়সের ছাপ। আগের মতো দৌড়-ঝাঁপ করে সংগঠনের কাজ করতে পারেন না। সে নিয়ে খেদের অন্ত নেই। তবে মনে এখনো তারুণ্যের প্রাণোচ্ছলতা। তিনি সন্জীদা খাতুন। বাংলাদেশে শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত এক নাম। আজ তাঁর সাতাশিতম জন্মদিন। জন্মদিন প্রসঙ্গে তিনি একবার বলেছিলেন, ‘জন্মদিন আমার কাছে কোনো গুরুত্ব বহন করে না। এটা একটা জৈবিক ব্যাপার, এমনই কোনো একদিন জন্মেছিলাম। আরেকটু বুড়ো হয়ে গেলাম এই আর কি!

আজ তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে ছায়ানটে বিকাল থেকে শুরু হবে অনুষ্ঠান। গানে গানে শুভানুধ্যায়ীরা পালন করবেন তাঁর জন্মদিন।

সন্জীদা খাতুন ছায়ানটের জন্য কাজ করতে গিয়ে কখনো প্রাপ্তির কথা ভাবেননি। পুরো জীবন মানুষের জন্য সমর্পিত তার। তার সারাজীবনের পথচলা বাংলাদেশের পরবর্তী প্রজন্মের কাছে উদাহরণ হয়ে রয়েছে। ছায়ানটের সভাপতি সন্জীদা খাতুন সাংগঠনিক দক্ষতার ক্ষেত্রে সৃষ্টি করেছেন দৃষ্টান্ত, পরিণত হয়েছেন প্রতিষ্ঠানতুল্য ব্যক্তিত্বে।

সন্জীদা খাতুন ১৯৩৩ সালের ৪ এপ্রিল ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা বাংলাদেশের জাতীয় অধ্যাপক কাজী মোতাহার হোসেন। মাতা সাজেদা খাতুন। তিনি ১৯৫৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে বিএ অনার্স করেন। ১৯৫৫ সালে বিশ্বভারতী থেকে বাংলা ভাষা সাহিত্যে প্রথম শ্রেণিতে এমএ পাস করেন। একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৮ সালে তিনি ‘রবীন্দ্রসংগীতের ভাবসম্পদ’ গবেষণাপত্রে পিএইচডি  লাভ করেন। পরে ১৯৮৩-১৯৮৫ সাল পর্যন্ত পিএইচডি উত্তর গবেষণা করেন। সন্জীদা খাতুন ১৯৫৭ সাল থেকে ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে অধ্যাপনা শুরু করেন। ১৯৯৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে প্রফেসর হিসেবে অবসরগ্রহণ করেন তিনি। দীর্ঘ জীবনে তিনি বাংলাদেশ সরকারের ‘একুশে পদক’, ভারতের পশ্চিবঙ্গের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় প্রদত্ত ‘দেশিকোত্তম’ (ডি. লিট), পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের ‘রবীন্দ্রস্মৃতি পুরস্কার’, কলকাতার ‘টেগোর রিসার্চ ইনস্টিটিউট’ থেকে ‘রবীন্দ্রতত্ত্বাচার্য’ উপাধি, ‘বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার’, ‘অনন্যা’ পুরস্কার, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির সম্মানজনক ফেলোশিপ, বেগম জেবুননেছা ও কাজী মাহবুবউল্লাহ জনকল্যাণ ট্রাস্টের স্বর্ণপদক ও সম্মাননা, ‘সা’দত আলী আখন্দ পুরস্কার’, বিজয় দিবস পদক, ২০০৯ বাংলা একাডেমির রবীন্দ্র পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কার লাভ করেন। আর গতবছর ভারত সরকার প্রবর্তিত ‘টেগোর অ্যাওয়ার্ড ফর কালচারাল হারমনি’ পুরস্কার দেওয়া হয় ছায়ানটকে। সংগঠনের পক্ষ থেকে তা গ্রহণ করেন তিনি।

সংগঠক সন্জীদা ১৯৬১ সালে জন্মকাল থেকে ‘ছায়ানট’ সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত। ১৯৭২ সাল থেকে অদ্যাবধি ‘ছায়ানট সংগীতবিদ্যায়তন’-এর অধ্যক্ষ। ২০০১ সাল থেকে ‘ছায়ানট’-এর সভাপতি।  ১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদ’-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। এছাড়াও ‘নালন্দা’ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি তিনি। তার গাওয়া বেশকিছু রবীন্দ্রসংগীতের এলবাম প্রকাশিত হয়েছে।

তিনি একজন সফল লেখক। ‘কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত’, ‘রবীন্দ্রসংগীতের ভাবসম্পদ’ ‘ধ্বনি থেকে কবিতা’, ‘অতীত দিনের স্মৃতি’, ‘কাজী মোতাহার হোসেন’, ‘রবীন্দ্রনাথের হাতে হাত রেখে’, ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতির চড়াই উতরাই’, ‘স্বাধীনতার অভিযাত্রা’,  ‘আমার সোনার বাংলা’, ‘জননী জন্মভূমি’, ‘রবীন্দ্রনাথের গান মননে লালনে’ সহ বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ রচনা করেছেন।